• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

৯০০ জরুরি ওষুধের দাম বৃদ্ধি ১ এপ্রিল থেকে চিকিৎসা খরচে বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের উপর

ব্যথা কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টাসিড, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ-সহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধ

প্রতীকী চিত্র

নতুন অর্থবর্ষ শুরু হতেই ফের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সাধারণ মানুষের জীবনে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর এবার দাম বাড়ছে জীবনদায়ী এবং জরুরি ওষুধের। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি বা এনপিপিএ ১ এপ্রিল থেকে প্রায় ৯০০ ধরনের ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা এমআরপি ০.৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের পাইকারি মূল্য সূচক বা ডব্লিউপিআই বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। এনপিপিএ-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডব্লিউপিআই গড়ে প্রায় ০.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুযায়ী ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস বা এনএলইএম-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলির দাম এই সীমার মধ্যে বাড়াতে পারবে উৎপাদক সংস্থাগুলি, তাও আবার সরকারি অনুমতি ছাড়াই।

উল্লেখযোগ্য হলো, এই তালিকায় রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ, যেমন ব্যথা কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টাসিড, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ-সহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধ। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর।

আইনগত দিক থেকে এই মূল্য সংশোধন নতুন নয়। ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার ২০১৩ অনুযায়ী, ডবলিউপিআই-এর ভিত্তিতে প্রতি বছর ওষুধের এমআরপি সংশোধন করা যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধির হার কম মনে হলেও বাস্তবে এর প্রভাব অনেক বড়। কারণ এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলি প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাঁদের মতে, জীবনদায়ী ওষুধে আরও বেশি ভর্তুকি থাকা উচিত ছিল।

Advertisement

একই সুর শোনা গিয়েছে ওষুধ বিক্রেতাদের সংগঠনগুলির মধ্যেও। তাদের দাবি, ওষুধে কর ছাড় না দিয়ে মূল্যবৃদ্ধির পথ খুলে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা । কিছু সংগঠনের মতে, এতে চাপ পড়ছে ক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর।

Advertisement

তবে তুলনামূলকভাবে এ বছরের মূল্যবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কম। ২০২৪ সালে যেখানে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ১.৭৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেই হিসেবে ২০২৫-এর এই বৃদ্ধি সাম্প্রতিক সময়কালের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ধারায় এটি সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়াবে।

Advertisement