মীনাক্ষী ভট্টাচার্য, দিল্লি
কথায় আছে, বড়দের লড়াইয়ে ছোটদেরই বেশি ক্ষতি হয়— পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত যেন তারই উদাহরণ। এই যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের উপর।
Advertisement
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে তুলনামূলক সস্তায় তেল আমদানি করে। সেই তেলের দাম ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হয়, আর সেই টাকা দিয়ে ইরান ভারত থেকে বাসমতি চাল, মসলা, স্টিল ও অন্যান্য পণ্য কিনে থাকে। শুধু ইরান নয়, উপসাগরের আরও কয়েকটি দেশও ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বাসমতি চাল আমদানি করে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার চাল রপ্তানির অর্থ আটকে গিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন।
Advertisement
পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক জাহাজ উপসাগরীয় বন্দরে আটকে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য সরবরাহও থমকে গিয়েছে। এর ফলে রপ্তানি কমেছে, আর পেমেন্ট পেতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ বাজারে চাহিদা কমে গেলে তাঁদের আয়ও কমবে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে, যেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্পক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বাসমতি চাল রপ্তানি, সার উৎপাদন, হীরা শিল্প, ভ্রমণ ও বিমান পরিষেবায়। এছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে টেক্সটাইল, রাসায়নিক, টায়ার ও প্যাকেজিং শিল্পও সমস্যায় পড়বে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। তাই পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লে দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হেব কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলে।
Advertisement



