• facebook
  • twitter
Monday, 30 March, 2026

শিলিগুড়ির কিশোরীর মৃত্যুকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার

তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যুর ছ’দিন পর অবশেষে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক আমির আলিকে চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও এক ব্যক্তি সমীর আলিকেও আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আগেই একজনকে আটক করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই জানা যায়, মূল অভিযুক্ত চেন্নাইয়ে পালিয়ে গিয়েছে। এরপরই পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে শিলিগুড়ির কুলিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কিশোরীর মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে অভিযোগ ওঠে। গৃহশিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি গ্রেপ্তারের দাবিতে পথ অবরোধও করা হয় দ্রুত।

Advertisement

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাপানউতোর। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির মেয়র ও তৃণমূলের নেতা গৌতম দেব নিহত কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের পর বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ। এবার আমি চাই, আইনের মাধ্যমে তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক।’ একইসঙ্গে তিনি শঙ্কর ঘোষকে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শঙ্কর ঘোষ দাবি করেন, ‘এই গ্রেপ্তারে এত দেরি হওয়ার পিছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ রয়েছে।’ যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন গৌতম দেব। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি অযথা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে। পুলিশ নিজের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করেছে এবং শেষমেশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও শুরু থেকেই সতর্ক ছিলাম। আমি নিজে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি করিনি। পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে শহরের বাইরে থেকে অভিযুক্তকে ধরে এনেছে।’ ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তৎপর পুলিশ। এখন এই মামলার অগ্রগতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দিকেই নজর রাজ্যের মানুষের।

Advertisement