মায়ানমারে ভূমিকম্প পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলির নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত। সোমবার ইয়াঙ্গনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ফেডারেশন অফ মায়ানমার ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটিজ’ (ফেড.এমইএস)-এর হাতে উন্নত মানের ভবন পরিদর্শন সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হল।
ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগ ভারত সরকারের অনুদান সহায়তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মায়ানমারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলির গঠনগত নিরাপত্তা যাচাই ও পুনর্নির্মাণে এই সরঞ্জামগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
এ মাসের শুরুতে ইয়াঙ্গনে সারসোবেইকম্যান সাহিত্য কেন্দ্র উদ্বোধনের সময় নিজের ভার্চুয়াল ভাষণে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হল এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
Advertisement
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মায়ানমারে ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় ঠাকুর। তিনি ফেড.এমইএস-এর সভাপতি ইউ খিন মাউং হাতেয়ের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সরঞ্জাম তুলে দেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মায়ানমার ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সিলের সভাপতি অং কিয়াও মিয়াত, মায়ানমার ভূমিকম্প কমিটির সভাপতি ইউ নিয়ুন্ত মাউং সান, ইয়াঙ্গন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হ্লা মিয়ো তুন-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
দূতাবাস জানায়, ভারতের তরফে দেওয়া এই উন্নত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ পরিদর্শনের যন্ত্র, লেভেলিং ও ডিজিটাল মূল্যায়নের প্রযুক্তি, গঠনগত সোজাসুজি যাচাইয়ের ব্যবস্থা, কংক্রিটের শক্তি ও গুণমান পরীক্ষার সরঞ্জাম, রডের অবস্থান নির্ণয়ের যন্ত্র এবং কাঠামোগত বিকৃতি পর্যবেক্ষণের উপকরণ।
এই সমস্ত সরঞ্জামের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলির ক্ষয়ক্ষতি নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা, কাঠামোর স্থায়িত্ব যাচাই এবং মেরামত ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৪ মার্চ ইয়াঙ্গনে প্রায় ৩.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘সারসোবেইকম্যান’ সাহিত্য কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়, যা ভারতের সহায়তায় গড়ে উঠেছে। এই প্রকল্প মায়ানমারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ইউ নিয়ো সো।
Advertisement



