সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর পর এবার মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর পর এবার তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লেখিকা ও প্রাক্তন সাংবাদিক মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মোদী জমানায় যৌনতার বিনিময়ে একাধিক মহিলাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ, এমনকি মন্ত্রীপদও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পডকাস্ট থেকে। সেখানে ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেন, ভারতের রাজনীতিতেও যৌনতার বিনিময়ে পদ দেওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, কিছু মহিলা সাংসদ ও নেত্রী ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিনিময়ে পদ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এপস্টিন তো ছোট বিষয়, বড় বিষয়গুলিও সামনে আসা উচিত।’ যদিও তিনি সরাসরি কোনও নাম বা প্রমাণ পেশ করেননি। আর এরপরই মধুপূর্ণিমা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। স্বামীর অভিযোগের পরেই মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে একই ধরনের দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মহলে এই ধরনের কথাবার্তা বহুদিন ধরেই ঘুরছে। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে কে বা কারা মন্ত্রী হয়েছেন, সেই নিয়ে নানা আলোচনা হিন্দুত্ববাদী মহলেও শোনা যায়। মধুপূর্ণিমা কিশওয়ারের তরফে এমন অভিযোগ সামনে আসার পর তা যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার একসময় প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন হিন্দুত্ববাদী চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পুরস্কারও পেয়েছেন। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বই লিখেছেন এবং একসময় তাঁকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। তাই তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে।
Advertisement
কিশওয়ার তাঁর পোস্টে আরও কিছু পরিচিত নামের উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছেন হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্কর। যদিও তাঁদের ক্ষেত্রেও তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি, শুধু ‘শোনা কথা’র ভিত্তিতেই মন্তব্য করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
এছাড়া তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম টেনে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তিনি মন্ত্রী হলেন, তা নিয়েও নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের মুখে তিনি এত ‘কেচ্ছা’র গল্প শুনেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমঞ্চে উপস্থিত থাকতেও তাঁর রুচিতে বাধে।
Advertisement



