• facebook
  • twitter
Saturday, 28 March, 2026

পেট্রল ও ডিজেলে অন্তঃশুল্ক কমালো কেন্দ্র

১৫ দিন অন্তর জ্বালানির দাম পর্যালোচনা

প্রতীকী চিত্র

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। পেট্রল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানোর পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে—এখন থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর দেশে জ্বালানির দাম পর্যালোচনা করা হবে।

কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রল, ডিজেল ও অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘সব দিক বিবেচনা করেই পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শুল্ক ও সেস আরোপ করা হয়েছে। ১৫ দিন অন্তর দাম পর্যালোচনা করা হবে।’

Advertisement

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রলের উপর অন্তঃশুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। তবে পেট্রল এবং ডিজেলের উপরে অন্তঃশুল্ক ছাড়াও কিছু শুল্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি লিটার পেট্রলে এখন শুল্ক কমে হল ১১.৯ টাকা। প্রতি লিটার ডিজেলে শুল্ক কমে হয়েছে ৭.৮ টাকা।

Advertisement

পেট্রলের ক্ষেত্রে ১১.৯ টাকার মধ্যে ১.৪০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৩ টাকা বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক, ২.৫০ টাকা কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস এবং ৫ টাকা সড়ক ও পরিকাঠামো সেস রয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেলে ৭.৮ টাকার মধ্যে ১.৮০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৪ টাকা কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস এবং ২ টাকা সড়ক এবং পরিকাঠামো সেস।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর পাল্টা জবাব দেয় ইরান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশ্বে মোট তেল ও এলপিজি বাণিজ্যের প্রায় ২০থেকে ২৫ শতাংশ এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আমদানি হয়ে থাকে। এর পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ২২ থেকে ২৮ লক্ষ ব্যারেল। পরিস্থিতির চাপে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশীয় বাজারেও চাপের সৃষ্টি হয়।

কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দু’টি পথ ছিল—এক, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বালানির দাম বাড়ানো, দ্বিতীয়ত, আর্থিক চাপের মধ্যেও সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির ভার কমানো। এক্ষেত্রে সরকার দ্বিতীয় পথই বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২২ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানির দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারতীয় সংস্থাগুলির বিপুল ক্ষতি লাঘব করতেই এই পদক্ষেপ করেছে সরকার। এইচপিসিএল, বিপিসিএল ও আইওসি-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে কোনও সমস্যার মুখে না পড়ে।

তবে শুল্ক কমানোর ঘোষণার পরও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর সরাসরি সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সীমিতই থাকবে। কারণ, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির ক্ষতির পরিমাণ কমাতেই নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের আবহে ভারতে এনার্জি লকডাউন বা জ্বালানি সঙ্কট ঘিরে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। পেট্রল-ডিজেলের অভাবে ফের করোনাকালের গৃহবন্দি দশা ফিরতে চলেছে এমন গুঞ্জন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। শুক্রবার এই সমস্ত আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
এরপর পাঁচের পৃষ্ঠায়

Advertisement