• facebook
  • twitter
Friday, 8 May, 2026

বিপ্লবী কথা

একসময় তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের অধীনে এক নিষ্ঠাবান স্বাধীনতা সংগ্রামী।

বহু প্রতীক্ষিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির টিজার অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। জিৎ অভিনীত এই ছবির টিজার এক শক্তিশালী গল্পের ঝলক তুলে ধরে, যেখানে বিদ্রোহ আর অপরাধের সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়।

১৯৬০-এর দশকের কলকাতাকে পটভূমি করে তৈরি এই ছবিতে দেখা যাবে একের পর এক সুচিন্তিত ডাকাতির ঘটনা, যা ক্ষমতাশালীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত হয় এবং যা একইসঙ্গে ভয় ও কৌতূহল তৈরি করে। এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন অনন্ত— এক রহস্যময়, প্রবীণ চরিত্র, যাকে কেউ দেখে অপরাধী হিসেবে, আবার কেউ মনে করে ত্রাণকর্তা। ইন্সপেক্টর দুর্গা রায় যখন তাকে ধরার জন্য তীব্র অভিযান শুরু করেন, তখন জনমত বিভক্ত হয়ে পড়ে— প্রশ্ন ওঠে, অনন্ত কি শুধুই একজন চোর, নাকি পুনর্জন্ম নেওয়া এক বিপ্লবী?

Advertisement

বহুস্তরীয় গল্প বলার ভঙ্গি এবং সময়ের ভিন্ন স্তরের মাধ্যমে ছবিটি অনন্তের অতীতে গভীরভাবে প্রবেশ করে। একসময় তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের অধীনে এক নিষ্ঠাবান স্বাধীনতা সংগ্রামী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন, দেখেন সেই আদর্শেরই অবক্ষয়, যার জন্য তিনি লড়াই করেছিলেন। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও অবিচার মেনে নিতে না পেরে, অনন্ত বেছে নেন এক চরম পথ— নিজের কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং অটল নৈতিকতার জোরে শোষিতদের জন্য শুরু করেন এক নতুন লড়াই।

Advertisement

১৯৬০-এর দশকের কলকাতার পটভূমিতে নির্মিত, “অনন্ত” একজন রহস্যময় এবং দক্ষ বয়স্ক ব্যক্তির যাত্রা অনুসরণ করে, যিনি একজন ডাকাত এবং একজন বিপ্লবী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মধ্যে দোদুল্যমান হন। গল্পটি অনন্তের জীবনকে ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে উন্মোচন করে, মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশনায় একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার সম্পৃক্ততা প্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর, সামাজিক দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের শোষণের দ্বারা হতাশ হয়ে, তিনি বঞ্চিতদের মধ্যে সম্পদ পুনর্বণ্টন করার জন্য ব্যাংক ডাকাতি এবং শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইন্সপেক্টর দুর্গা রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ যখন তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, তখন অনন্তের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং সামরিক দক্ষতা তাকে এগিয়ে রাখে ও পুলিশের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। আখ্যানটি তার বর্তমান দিনের ডাকাতির সাথে তার করুণ অতীতকে মিশিয়ে দেয়, তার ত্যাগ, সহকর্মীদের হারানো এবং তারা যে আদর্শের জন্য লড়াই করেছিল তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা দেখায়। অবশেষে, অনন্তের কর্মকাণ্ড ন্যায়বিচার এবং অপরাধের মধ্যে অস্পষ্ট রেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পরিচালকের কথায়, অনন্ত সিংহের জীবন বর্ণময় তো বটেই অসম্ভব সিনেম্যাটিক। একটা তিরিশ চল্লিশ বছরের ব্যবধানে দুটো সময়কাল, দুই সময়ে, দুই ভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতি— তারই মধ্যে একজন মানুষের নিজের আদর্শে বিশ্বাস রেখে লড়ে যাওয়া। অনন্তের জীবনের সবটুকু ধরা তো সম্ভব না, আমি কেবল ওঁর জীবনের, ওঁর আদর্শের মধ্যে যে স্পিরিটটা, যা ওঁকে সবার চেয়ে আলাদা করে রাখে আজও সেটাই একটা জমজমাট চিত্রনাট্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি। আজকের এই অস্থির সময়ে, যেখানে মানুষ একজন আদর্শকে রোজ খুঁজে বেড়ায়, আমি এই সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষের সামনে একটা আয়না তুলে ধরতে চেয়েছি।

জিৎদাকে এর আগে বাঙালি প্রায় দু’দশক ধরে নানা চরিত্রে দেখেছে। এই ছবিতে অনন্ত সিংহের অসম্ভব মানসিক ও শারীরিক কাঠিন্যটা তুলে ধরার জন্য আমার মনে হয়েছিল ও-ই সবচেয়ে যোগ্য মানুষ। আপনারা ছবি রিলিজ হলে দেখতে পাবেন, একজন অভিনেতা চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কতখানি নিজেকে ভাঙাগড়া করেন। আমার কাছেও এ এক লাইফ টাইম এক্সপিরিয়েন্স।

Advertisement