• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

কমিশনের নিয়োগ করা পর্যবক্ষেকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল

রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলাকে আকস্মিক বদলির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল

বাংলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিযুক্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ সায়নী ঘোষ নাম-সহ চারজন পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অজয় কাটেসরিয়া পূর্বে সাতনার কালেক্টর থাকাকালীন বেআইনিভাবে ৪০ একরের বেশি সরকারি জমি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গাজোলের পর্যবেক্ষক ধীরজ কুমারের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে স্বাস্থ্য কমিশনার থাকাকালীন প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকার অ্যাম্বুল্যান্স টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মধ্যমগ্রামের পর্যবেক্ষক অরিন্দম ডাকুয়া নাকি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিয়োগ বলে দাবি তৃণমূলের। বালিগঞ্জের পর্যবেক্ষক গণ্ডম চন্দ্রুডুর বিরুদ্ধেও অন্ধ্রপ্রদেশে কর্মরত অবস্থায় যৌতুক সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও মালদহে নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর স্ত্রী বিহারের এক সক্রিয় বিজেপি নেত্রী এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

এই সমস্ত ঘটনাকে সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির পর এবার নির্বাচন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলাকে আকস্মিক বদলির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। গোটা পরিস্থিতি ঘিরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।