ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিজয়গঞ্জ থানা এলাকার এই ঘটনায় দেহ সরানো এবং বিস্ফোরণের নেপথ্যে বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাটি ঘটে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে, যেখানে বোমা তৈরির সময় পরপর বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় মৃত্যু হয় মসিউর কাজি নামে এক ব্যক্তির। অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর তাঁর দগ্ধ দেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় নিয়ে গিয়ে একটি মেছোভেড়ির ধারে ফেলে রাখা হয়। তদন্তকারীদের মতে, ভূপতিনগরের ঘটনার মতো এখানেও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বিশেষ করে নজরে এসেছে কিছু জটিলতা। বিস্ফোরণ ঘটেছে কলকাতা পুলিশের আওতায়, অথচ দেহ উদ্ধার হয়েছে রাজ্য পুলিশের এলাকায়। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
Advertisement
ইতিমধ্যেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় বিপজ্জনক আঘাত, দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থের ব্যবহার সহ এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্স অ্যাক্টের আওতায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে কলকাতা পুলিশ মামলার কেস ডায়েরি হস্তান্তর করে এবং গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে এনআইএর হেফাজতে দেওয়া হয়।
Advertisement
উল্লেখ্য, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাড়োয়ায় উদ্ধার হয় তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ। তদন্তে পুলিশ দাবি করে, বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণেই মৃত্যু হয়েছিল মসিউর কাজির, যিনি দেগঙ্গা এলাকার এক তৃণমূল নেতা ছিলেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সঞ্জয় মণ্ডল নামে এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন এই বিস্ফোরণকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে এনআইএর তদন্তের দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।
Advertisement



