মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এনআরসি চালুর পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আজ এসআইআর, কাল এনআরসি করবে। মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর চেষ্টা হবে। আমি থাকতে তা হতে দেব না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এসআইআরের কারণে।
এদিন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, আচমকা বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে যায়। ‘হঠাৎ দেখি সবার নাম উধাও। আমার নিজের নামও অ্যাডজুডিকেশনে চলে গিয়েছে’। যদিও নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন, তা মানতে নারাজ মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা শুধুই হ্যাকিং, না এর পিছনে অন্য কিছু আছে? মানুষকে জানতে হবে।’
Advertisement
মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিভ্রাট নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর মতে, বৈধ ভোটারদেরও ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। এই ঘটনাক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বুধবারের সভায় মমতা মা-বোনেদের বিশেষভাবে বুথ পাহারার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, ‘এসআইআরের বদলা একটা করে ভোটে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অন্যদিকে, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে কিছু নেই, আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।’
Advertisement
উত্তরবঙ্গের জনসভা থেকে স্পষ্ট, ভোটের আগে এসআইআর ইস্যুকেই বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথে বুথে সংগঠনকে শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মমতার বার্তা ভোটারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার।
Advertisement



