ছাব্বিশের নির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে প্রচারের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই নজর কাড়ছে প্রার্থীদের অভিনব জনসংযোগের কৌশল। কোথাও প্রার্থী নিজে রান্নায় হাত লাগাচ্ছেন, কোথাও আবার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ভিন্নধর্মী প্রচারের তালিকায় এবার নতুন সংযোজন কেশিয়াড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামজীবন মান্ডির ‘দৌড়ে প্রচার’।
গাড়ি বা মিছিলের বদলে তিনি বেছে নিলেন দৌড়কে। বুধবার সকালে দাঁতন ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর থেকে জগিং পোশাকে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৌড়ে পৌঁছে যান ঘোলাই মাঠে, সেখানে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ছিল। তাঁর এই দৌড়ের সময় পিছনে মোটরবাইক-বহর এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও দেখা যায়।
Advertisement
৫৫ বছর বয়সি রামজীবন মান্ডি পেশায় একজন শিক্ষক এবং দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি এবার নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর কথায়, এতে একদিকে যেমন শরীরচর্চা হল, তেমনই পথে পথে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও মিলল।
Advertisement
এবারের নির্বাচনে কেশিয়াড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল দুইবারের বিধায়ক পরেশ মুর্মুর পরিবর্তে মান্ডিকেই প্রার্থী করেছে। তাঁর এই ব্যতিক্রমী প্রচার ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের অন্য প্রার্থীরাও অভিনব উপায়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। কেউ রান্নাঘরে ঢুকে চুলোর সামনে বসে রান্না করছেন, কেউ আবার ঘুঁটে শুকোতে সাহায্য করছেন বা স্থানীয়দের সঙ্গে নাচ-গানে অংশ নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্পষ্ট—শুধু ভাষণ নয়, মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েই ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের নতুন নতুন প্রচার কৌশল আরও কতটা চমক আনে, এখন সেটাই দেখার।
Advertisement



