• facebook
  • twitter
Tuesday, 24 March, 2026

মালদহের চার কেন্দ্রে বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে পুলিশ পর্যবেক্ষক করায় বিতর্ক, নিশানা করল তৃণমূল

অন্য একটি ছবিতে সেই মহিলাকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির একটি মঞ্চে দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এই নিয়োগ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে মালদহ জেলার চারটি কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক করা হয়েছে বিহারের বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে। সেই পুলিশ পর্যবেক্ষকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের এক বিজেপি নেত্রী। এই অভিযোগের সমর্থনে তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। প্রকাশিত ছবিগুলির একটিতে জয়ন্তের সঙ্গে এক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে, যাঁকে তৃণমূল তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করছে। অন্য একটি ছবিতে সেই মহিলাকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির একটি মঞ্চে দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। যদিও এই ছবিগুলির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক প্রশ্ন তুললেন, যাঁর স্ত্রী বিজেপির নেত্রী, তাঁর স্বামী কী ভাবে নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করবেন?

Advertisement

মালদহের যে চারটি কেন্দ্রে জয়ন্ত দায়িত্বে রয়েছেন, সেগুলি হল মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর, মানিকচক এবং সুজাপুর। ব্রাত্য বসু বলেন, এই এলাকাগুলি বিহার সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবেই এমন একজন অফিসারকে ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে, যার পারিবারিক যোগসূত্র বিজেপির সঙ্গে রয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলেই রাজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

Advertisement

সোমবার নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে।  মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে বিমানবন্দর থেকে এ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই কমিশন নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে তৃণমূল ‘বিজেপি নেত্রীর স্বামী’ বলে অভিযোগ তুলল। ব্রাত্য বলেন, ‘বাকি যাঁদের আনা হয়েছে, তাঁদের কোন কোন আত্মীয় বিজেপির কী কী পদে আছে, সেটাই এখন দেখার।’

জয়ন্ত কান্ত একজন আইপিএস অফিসার। তৃণমূল কংগ্রেস যে তালিকার ছবি মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এনেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আধিকারিক হলেও বর্তমানে বিহারে কর্মরত। এই তথ্য সামনে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ছবি প্রকাশ করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার যা করছেন, তার প্রতিটি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইতিহাসে নথিভুক্ত হবে। এর আগেও এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা ও জামাতা সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। সেই অভিযোগ ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা হয়েছিল। এবার মালদহের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয়ন্ত কান্তকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করায় কমিশনকে নিশানা করল তৃণমূল। এখন দেখার, এই অভিযোগগুলির জবাবে নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যাখ্যা দেয় কিনা।

 

 

 

 

 

Advertisement