বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে গবেষণার পরিধি বাড়ানোর উপর জোর দিতে চাইছে বিএনপি সরকার। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, দেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও অজানা রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের বহু তথ্য, অভিজ্ঞতা ও দলিল এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। এই ঘাটতি পূরণ করতে গবেষকদের উৎসাহ দিতে সরকার আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগে একক ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের গবেষণাই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অনুদানের পরিমাণ পাঁচ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ধার্য করা হয়েছে। তবে তা গবেষণার বিষয় ও পরিসরের উপর নির্ভর করবে। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য ১০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, একক গবেষণার জন্য ন’মাসের প্রকল্পে পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং ছ’মাসের গবেষণায় পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকবে। প্রতি বছরই অনুদান মিলবে। তবে বছরে কত জন করে এই অনুদান পাবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি।
Advertisement
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণার জন্য আবেদন পত্র আহ্বান করা হবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গবেষণা শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।
Advertisement
মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়েও গবেষণার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এই সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরেও বহু তথ্য এখনও সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি। উল্লেখ্য, ওই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের জেরে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ইতিহাসকে নথিবদ্ধ ও সমৃদ্ধ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
Advertisement



