• facebook
  • twitter
Saturday, 14 March, 2026

৫টি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে পর্ষদ গঠন মুখ্যমন্ত্রীর

সব মিলিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, রাজ্য সরকার পাঁচটি সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ‘সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন পর্ষদ’ গঠন করতে চলেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলির ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মুন্ডা ও কোরা–এই দুই তফসিলি জনজাতি (এসটি), ডোম–তফসিলি জাতি (এসসি) এবং কুম্ভকার ও সদগোপ–এই দুই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য আলাদা করে পাঁচটি উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পর্ষদগুলি মূলত সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করা, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং প্রথাগত অধিকার রক্ষা করার দিকেও নজর দেওয়া হবে। তার ফলে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, রাজ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন অনগ্রসর ও জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার নতুন পাঁচটি পর্ষদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, মা-মাটি-মানুষের সরকার সব সময়ই সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাজ্যে এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে এই সম্প্রদায়গুলির উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার বার্তা দিয়ে সরকার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সমাজের আরও বৃহৎ অংশের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

Advertisement