প্রশ্ন: ‘কর্পূর’ ছবির মৌসুমী সেন বাস্তব ঘটনা অনুপ্রাণিত চরিত্র। খুব ইনটেন্স একটা লুকে দেখা যাচ্ছে তোমাকে। কোনো রেফারেন্স পয়েন্ট ছিল?
ঋতুপর্ণা: না, কোনও রেফারেন্স পয়েন্ট দেওয়া হয়নি। আমি ক্যারেক্টার হান্টিং করতে চাই। আমার মনে হয়েছিল, চরিত্রটা খুব স্ট্রং। আমি যখনই কোনও চরিত্র করি, দেখতে চাই চরিত্রটা আমার কেরিয়ারে নতুন কী সংযোজন করতে পারে। আমার মনে হয়েছিল, এই চরিত্রের মধ্যে এমন অদ্ভুত কিছু লেয়ার রয়েছে, যেটা আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুন কিছু দিতে পারে। মৌসুমী সেন খুব পাওয়ারফুল, আবার একদিকে পাওয়ারলেস, হেল্পলেস। চরিত্রের ভেতরে অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার মনে হয়েছিল অভিনেত্রী হিসেবে সেই জায়গাটাকে হয়ত আমি একটু অন্যভাবে বের করে আনতে পারি। সেই জন্যই আমার এই গল্পটা বেছে নেওয়া।
প্রশ্ন: একটা আপাত পুরুষতান্ত্রিক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যক্তি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকেও তো পাওয়ারফুল হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই হেল্পলেস সিচুয়েশনে পড়তে হয়েছে। যদি খুব ভুল না করি, এখনও হয়। ভালনারেবিলিটির স্তরে মৌসুমী সেনের মধ্যে তুমি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে খুঁজে পেয়েছিলে?ঋতুপর্ণা: একদম যে মেলাতে পেরেছিলাম, তা নয়। কিন্তু কিছু কমন ফ্যাক্টর থাকে একজন মহিলার ভেতরে যেটা হয়তো আমাকে অনেকটাই ভাবিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এরকম সিচুয়েশন আসে যে মানুষ খুব সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। বা কোন সিদ্ধান্ত হয়ত নিলাম যেটা এই মুহূর্তে মনে হল ঠিক কিন্তু পরবর্তী সময়ে বুঝলাম যে সেটা ভুল। এগুলো তো মানুষ মাত্রই হয়। এই জায়গাটায় আমার মনে হয় প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো জায়গায় খুব ভালনারেবল।
Advertisement
প্রশ্ন: আর নিজের ইন্ডাস্ট্রি…
ঋতুপর্ণা: ইন্ডাস্ট্রিতে থাকাকালীন এখনও অনেককিছুই ফেস করতে হয়। অনেককিছুই ঠিক মতো হয় না, যেভাবে হবে ভাবি। তবু সেগুলো নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়, যুদ্ধ করতে হয়।
Advertisement
প্রশ্ন: মানুষের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় তারা তোমাকে ইনটেন্স চরিত্রে বেশি দেখতে চান। তুমি তো অনেক ধরনের ছবি করো। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজেকে কোন ধরনের চরিত্রে দেখতে বেশি পছন্দ করে?
ঋতুপর্ণা: আমি যে চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেকে বেশি দেখতে পছন্দ করি সেগুলোর মধ্যে নিশ্চিতভাবেই একটা সাবস্ট্যান্স থাকবে। একটা বক্তব্য থাকবে, পাওয়ার থাকবে এবং একইসঙ্গে একটা ভালনারেবিলিটির জায়গাও থাকবে। আমি মনে করি মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যদি ইমোশনলেস হয়ে পড়ে, তার অস্তিত্বের জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ ইমোশনই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। সে যে ধরনের ইমোশনই হোক না কেন। ইমোশনই মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরি করে, দৃঢ় করে। আমি সেরকম চরিত্রই চাই যেখানে এই সবকিছু থাকবে। এই ভ্যারাইটিটা আমার খুব দরকার।
প্রশ্ন: হঠাৎ করেই জিজ্ঞাসা করছি, ‘কর্পূর’ তোমার কত নম্বর ছবি?
ঋতুপর্ণা: (বেশ কিছুটা সময় নিয়ে) আমার মনে হয় ২২১…
প্রশ্ন: মানে কাছাকাছি, না ২২১ই?
ঋতুপর্ণা: (হেসে) মনে হয় তাই। কারণ ২২০ তো হয়ে গিয়েছিল শুনেছিলাম!
প্রশ্ন: একের পর এক ছবি করে যাওয়া এবং থেকে যাওয়া। নতুন প্রজন্মের অনেককেই দেখছি, আসছেন, ছবি করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা থাকছেন না। কেউ কেউ হয়ত থাকছেন কিন্তু থেকে যাওয়াটা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো হচ্ছে না। কেন?
ঋতুপর্ণা: দেখো, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জায়গাটা অন্যদের সঙ্গে হয়ত ম্যাচ করবে না। কারণ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর কমিটমেন্ট, ডেডিকেশন বা পরিশ্রম। আমি জানি না সবাই সেই পরিশ্রমের জায়গাটা করে ওঠে কিনা। এখন অনেকেই বলে, অত পরিশ্রম করার কী দরকার! ইন্টেলিজেন্টভাবে আরও বুদ্ধি করে কাজ করা উচিত। তাঁরা সেভাবেই হয়ত বুদ্ধি করে কাজ করেন, আমি পরিশ্রম করে কাজ করি। আমার লেবারটা হয়ত অনেক বেশি হয়ে যায়। তবু এখনও আমি ওই ইক্যুয়েশনটা বুঝতে পারিনি, যে কতটা বুদ্ধি আর কতটা পরিশ্রম মেশানো প্রয়োজন। তাই আমি পরিশ্রম দিয়েই কাজ করি। আমার মডেল যদি কেউ ফলো করে তাহলে হয়ত সেই কমিটমেন্টের জায়গায় চলে আসতে পারবে। আমার এখনও ১০০% কমিটমেন্ট থাকে। আমার কোনও শর্টকাট নেই।
প্রশ্ন: যাঁরা ‘কর্পূর’ দেখতে আসবেন, তাঁদের জন্য বলো… ‘কর্পূর’-এর ইউএসপি কী?
ঋতুপর্ণা: গল্পের স্ট্রেংথ এবং পারফরম্যান্স। খুব বলিষ্ঠ একটা ছবি। আমার চরিত্রটা তো অনন্য বটেই, বাকি যাঁরাই আছেন তাঁরা প্রত্যেকে দারুণ অভিনয় করেছেন। সবমিলিয়ে একটা দারুণ উপভোগ্য ছবি। আর একটা থ্রিলিং এলিমেন্ট রয়েছে যেটা দর্শকদের খুবই আনন্দ দেবে বলে আমি মনে করি।
Advertisement



