পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবি শপথ নেওয়ার পরেই তাঁকে স্বাগত জানিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘যাঁরা বাংলাকে ভালোবাসে, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।’ বৃহস্পতিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে নতুন রাজ্যপালকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান। সেই সময় কথোপকথনের মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলা এবং বাঙালিরা সব ভাষার মানুষকে সম্মান করে। এখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বাস করেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যাঁরা বাংলাকে ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে। এটাই বাঙালিদের স্বভাব।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি বলেন, ‘এটা সত্যি যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী।’
Advertisement
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্যে নতুন রাজ্যপালের উদ্দেশে একটি সূক্ষ্ম বার্তা রয়েছে। তাঁদের মতে, রাজ্য সচিবালয় এবং রাজ্যপালের দপ্তরের মধ্যে সুসম্পর্ক তখনই সম্ভব, যখন রাজ্যের স্বার্থ বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হবে।
Advertisement
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে রাজ্যপালের দপ্তর ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একাধিকবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সময়ে সেই টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। পরে তাঁর উত্তরসূরি সি ভি আনন্দ বোসের সময়ও নানা ইস্যুতে মতভেদ দেখা যায়। এবার নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি দায়িত্ব নিয়েছেন সি ভি আনন্দ বোসের জায়গায়। গত ৫ মার্চ আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন আনন্দ বোস। সেই দিনই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে আর এন রবির নাম ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত প্রায় দেড় দশকে গোয়েন্দা দপ্তরের প্রাক্তন কর্তার মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হলেন আর এন রবি। এর আগে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান ও প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
Advertisement



