লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের আবহেই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করল লোকসভা। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার সংসদের ভিতরে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষের সাংসদদের মধ্যে নিয়ম, বিধি এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও তর্কাতর্কি চলে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন দলের সাংসদ মোহম্মদ জাভেদ। এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ এবং কংগ্রেস নেতা মাল্লিকার্জুন খাড়গের ঘনিষ্ঠ সাংসদ মাল্লু রবি। স্পিকার ওম বিড়লা সেই সময় সভাকক্ষে উপস্থিত না থাকায় লোকসভার সভাপতিত্ব করছিলেন বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল।
Advertisement
মোহম্মদ জাভেদ যখন অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস পাঠ করা শুরু করেন, তখনই সংসদের ভিতরে আপত্তি তুলতে শুরু করেন কয়েকজন বিরোধী সাংসদ। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন প্রধান ও লোকসভা সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়েইসি প্রশ্ন তোলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে অন্য কোনও সদস্য কি এই ধরনের অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের অধিকার রাখেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই এই ধরনের প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
Advertisement
ওয়েইসির এই আপত্তির জবাবে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংসদের বিধি, আইন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লোকসভার কার্যপ্রণালীর নিয়ম অনুযায়ী সভাপতিত্বকারী সদস্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। তাঁর মতে, নিয়ম ভঙ্গের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এই বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘ওয়েইসির দাবি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, ওই সময় জগদম্বিকা পাল লোকসভার সভাপতিত্ব করার জন্য বৈধভাবে দায়িত্বে ছিলেন। সেই অবস্থায় প্রস্তাব গ্রহণে কোনও অসঙ্গতি নেই।’
বিজেপির তরফেও দাবি করা হয়, সংসদের কার্যপ্রণালীর নিয়ম অনুযায়ী ওই সময় জগদম্বিকা পাল সভার সভাপতিত্ব করার পূর্ণ অধিকারী ছিলেন। ফলে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও বিধিভঙ্গ হয়নি। তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ এখনও এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যার জেরে সংসদের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Advertisement



