• facebook
  • twitter
Monday, 9 March, 2026

ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা, ‘বোমা থাকবে না হলে আপনারা থাকবেন’

বৈঠকে জেলাশাসকদের তিরস্কার জ্ঞানেশ কুমারের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার কলকাতায় বৈঠক করল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠকের পর রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রুলবুক মেনেই নির্বাচন করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘রুলবুক ফলো করুন। রুলবুকের বাইরে গেলে তার ফল ভোগ করতে হবে সবাইকে।‘

সোমবারের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবির সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী।  প্রথমে জাতীয় ও রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত ও অভিযোগ শোনেন কমিশনের সদস্যরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটের সময় হিংসা ও ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানায়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ওপরও জোর দেয় তারা।

Advertisement

বিরোধী দলগুলির তরফে অভিযোগ ওঠে, নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র, বোমা, নগদ টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করে। এই প্রসঙ্গেই কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, ভোটে হিংসা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। রাজ্যে বোমা উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্রের প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘হয় বোমা থাকবে, না হলে আপনারা থাকবেন।‘ অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

Advertisement

পরে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইভিএম ব্যবস্থাপনা, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেয় কমিশন। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, আজ রাত থেকেই শুরু করতে হবে বিশেষ অভিযান। কোথাও যাতে অবৈধ অস্ত্র, বোমা, নগদ টাকা, মদ বা অন্য কোনও প্রলোভনমূলক সামগ্রী মজুত না থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলা এসআইআর নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে পিআইটিএনডিপিএস আইন কার্যকর না হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, এই আইনে কাউকে প্রতিরোধমূলক আটক করতে হলে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে সূত্রের খবর।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান—এই সাত জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সোমবার মুখোমুখি বৈঠকে তিরস্কার করে কমিশন।

বৈঠকে কমিশনের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশিকা মানতে কেন বারবার নির্দেশ দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। কমিশনের গাইডলাইন কার্যকর করতে ব্যর্থতার কারণও জানতে চাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে। এমনকি কমিশন কড়া সুরে বলে, ‘এই পরিস্থিতিতে আপনাদের কি ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে?’

কমিশন সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ এবং রিপোর্ট তাদের কাছে জমা পড়েছে। সেই সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ঘটনার প্রেক্ষিতেও পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন।

সূত্রের দাবি, গত তিন মাস ধরে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশনের ধারণা, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ২৫টি নোডাল এজেন্সিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। তাদের নির্দেশ, অবিলম্বে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মানতে হবে। কমিশনের কড়া বার্তা—নির্বাচন সংক্রান্ত গাইডলাইন অমান্য করলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের সব স্তরের কর্তাদেরই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement