• facebook
  • twitter
Monday, 9 March, 2026

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই স্তন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রনের উপায়

ভারতে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৪ লক্ষ নতুন স্তন ক্যান্সারের রোগী ধরা পড়েছে

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সার অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে পরিণত হয়। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৪ লক্ষ নতুন স্তন ক্যান্সারের রোগী ধরা পড়েছে। এক সময় এই রোগ সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ত। ফলে ৫৭ শতাংশেরও বেশি রোগী শেষ পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য আসতেন এবং বেঁচে থাকার হার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যেত। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সচেতনতা বাড়া এবং স্ক্রিনিং সুবিধা সহজলভ্য হওয়ার ফলে অনেক মহিলার ক্ষেত্রে রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ছে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রথম ধাপে রোগ শনাক্ত হলে পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। কলকাতার আরজি স্টোন ইউরোলজি এন্ড ল্যাপারোস্কোপিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সচেতনতা ও স্ক্রিনিং বাড়ার ফলে ভারতে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারে প্রায় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

বিশ্বের ১৮৫টি দেশের মধ্যে ১৫৭টি দেশে মহিলাদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সার। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর নতুন স্তন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩.২ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে এবং মৃত্যু হতে পারে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষের। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রায় ৪৫ বছর বয়সের আশেপাশে এই রোগ ধরা পড়ে। এর পেছনে জেনেটিক কারণ, জীবনযাত্রার ধরন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisement

ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এখনও স্ক্রিনিংয়ের হার খুবই কম। এক শতাংশেরও কম মহিলা ম্যামোগ্রাম করান এবং মাত্র ০.৯ শতাংশ নারী ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা করান।তবে পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকারও। আয়ুষ্মান ভারতের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী বা আশা কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ির কাছেই স্ক্রিনিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্তন সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা, তাপ্তি সেন বলেন, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা, ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ম্যামোগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক ইতিহাস বা ঝুঁকি বেশি থাকলে প্রায় ৪০ বছর বয়সের পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করা উচিত বলে জানিয়েছেন ।

Advertisement