ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও সুপ্রিম কোর্টে গেল রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। যদিও প্রধান বিচারপতি জানান, এ ধরনের বিষয়ে এখনই আলাদা করে আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানির সময় এই বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশে এই প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, এসআইআর সংক্রান্ত ক্ষেত্রে ওই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে এবং রাজ্য সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।
Advertisement
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, অনেক ভোটারের নাম হঠাৎ করেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এমনকি তাঁদের নথিও গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, ‘যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরাও তো ভোটার। তাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁদের নথিপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না।‘
Advertisement
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এভাবে সরাসরি আবেদন করা যায় না। তখন মেনকা নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের ২৩ ও ২৪ নম্বর ধারার উল্লেখ করে অনুরোধ জানান, বিষয়টি যেন মূল মামলার সঙ্গেই যুক্ত করে বিবেচনা করা হয়। প্রধান বিচারপতি সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে জানান, মঙ্গলবার মামলার শুনানির সময় এই বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতেই গত শুক্রবার থেকে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনা কর্মসূচি শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর অবস্থান আন্দোলনের চতুর্থ দিন।
এরই মধ্যে রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক, অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে রাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ— সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
Advertisement



