• facebook
  • twitter
Saturday, 7 March, 2026

রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা তৃণমূলের ৪ প্রার্থীর

নথি-জটিলতায় দেরি বিজেপির রাহুলের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের চার প্রার্থী প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। কোয়েল মল্লিক এই প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখেন। স্বামী নিসপাল সিংকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিধানসভায় প্রবেশ করেন। নতুন রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল বলেন, ‘এটা আমার জীবনের এক নতুন যাত্রা। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবার আশীর্বাদ ও ভালোবাসা পেলে নিশ্চয়ই এই দায়িত্ব পালন করতে পারব।’

মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা হলেও তার বেশ আগেই বিধানসভায় পৌঁছে যান রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট নাগাদ তিনি বিধানসভায় আসেন এবং পরিষদীয় দপ্তরের সচিবালয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে রাজীব বলেন, ‘কখনও ভাবিনি যে আমি রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে সেখানে যাব। এটি একটি বড় দায়িত্ব এবং এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি। এর মাধ্যমে মানুষের এবং আমার দেশের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি।’ তৃণমূলের আর এক প্রার্থী মেনকা গুরুস্বামীও এদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এই সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত এবং সম্মানিত বোধ করছেন। এদিন তৃণমূলের প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় বিধানসভায় মনোনয়ন পেশ করেন।

Advertisement

বিধানসভায় মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের দপ্তরে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে বেলা প্রায় সাড়ে বারোটার সময় তাঁরা বিধানসভার সচিব ও রাজ্যসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাসের কাছে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক-সহ দলের একাধিক নেতা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর চার প্রার্থীই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Advertisement

বিজেপি প্রার্থী রাহুল অবশ্য মনোনয়ন জমা দিতে কিছুটা দেরি করেন। যদিও তিনি তৃণমূল প্রার্থীদের আগেই বিধানসভায় পৌঁছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে বসেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। তাঁর মনোনয়নের সময় বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এছাড়াও দলের একাধিক বিধায়কও সেখানে ছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঠিকমতো না মেলায় মনোনয়ন জমা দিতে দেরি হয় রাহুলের। দীর্ঘ অপেক্ষায় এক সময় রাহুলও অধৈর্য হয়ে পড়েন। পরে বিজেপি পরিষদীয় দল ও রাজ্য সংগঠনের উদ্যোগে সব জটিলতা মিটলে শেষ পর্যন্ত দুপুর আড়াইটের কিছু আগে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সাল থেকে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে মোট ন’বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেননি রাহুল।

Advertisement