অল ইংল্যান্ড ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় লক্ষ্য সেন। বৃহস্পতিবার এক গেম হেরে যাওয়ার পরেও লক্ষ্য হারিয়ে দিলেন হংকংয়ের কা লং আঙ্গুসকে। বিশ্বের ১২ নম্বর খেলোয়াড় লক্ষ্যকে শুরু থেকেই তীক্ষ্ণ এবং ক্ষুরধার দেখিয়েছে। র্যা লি এবং শারীরিক সক্ষমতায় বিপক্ষকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য জিতেছেন প্রথম গেমে ২১-১৯ পয়েন্টে। লড়াইটা ভালোই ছিল। দ্বিতীয় গেমে হংকংয়ের আঙ্গুস খেলায় ফিরে এসে ২৩-২১ পয়েন্টে লক্ষ্যকে হারিয়ে দেন। কিন্তু তৃতীয় গেমে দুরন্ত ভূমিকা পালন করেন লক্ষ্য। এককথায় বলা যায় প্রতিপক্ষ আঙ্গুসকে তিনি দাঁড়াতেই দেননি। লক্ষ্য জেতেন ২১-১০ পয়েন্টে।
লংয়ের বিরুদ্ধে গত তিনটি ম্যাচেই হেরেছিলেন লক্ষ্য। এ দিনও শুরুতে পিছিয়ে পড়েন। তবে ৪-৬ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় নিজের সেরা খেলা বার করে এনে ১৫-১১ পয়েন্টে এগিয়ে যান লক্ষ্য। আগ্রাসী রিটার্ন এবং নিখুঁত পজিশনের সাহায্যে বিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন তিনি। এক সময় ১৭-১৩ পয়েন্টে এগিয়ে যান। লং সহজে হাল ছাড়েননি। পরের দিকে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। এক সময় ম্যাচ ১৯-১৯ হয়ে যায়। জাম্প স্ম্যাশের সাহায্যে গেম পয়েন্ট জেতেন এবং লংয়ের ভুলে সেট পকেটে পুরে নেন।
Advertisement
দ্বিতীয় সেটে ক্রসকোর্ট স্ম্যাশ মেরে শুরু করেন। শটের বৈচিত্র্য এবং র্যা লিতে আগ্রাসন বজায় রেখে একসময় ১১-৪ এগিয়ে যায়। সেখান থেকে ম্যাচ ১২-১৭ করে দেন লং। ভারতীয় খেলোয়াড়কে চাপে ফেলে ১৭-১৯ করে দেন। অসাধারণ একটি ক্রসকোর্ট স্ম্যাশ মেরে তিন নম্বর ম্যাচ পয়েন্ট আদায় করেন লক্ষ্য। সেখান থেকে ফিরে এসে সেট পকেটে পুরে নেন লং।
Advertisement
তৃতীয় গেমেও লক্ষ্য ৬-২ এগিয়ে যেন। এমন কিছু শট খেলেন যার নাগাল পাননি লং। এক সময় লক্ষ্য ১৪-৬ এগিয়ে যান। লংকে দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর দম শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রথম দুই গেমের মতো লড়াই করতে পারছিলেন না। অন্য দিকে লক্ষ্যের তীব্রতা ছিল আগের মতোই। শেষ পর্যন্ত ২১-১০ পয়েন্টে গেম এবং ম্যাচ জিতে নেন লক্ষ্য। লক্ষ্য শেষ আটের খেলায় পৌঁছে যাওয়ার পরেই মানসিক দিক দিয়ে তিনি আরও তৈরি হচ্ছেন পরবর্তী ম্যাচগুলিতে আরও জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে।
Advertisement



