পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে উত্তেজনা। ইরানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জল্পনার মধ্যেই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করল রাশিয়া। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গে ল্যাভরভ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযান যাতে বাস্তবায়িত না হতে পারে, তার জন্য মস্কো সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ল্যাভরভ বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হলে তা গোটা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাঁর কথায়, ‘আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেব না, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সামরিক অভিযান চালাতে পারে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সবরকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
Advertisement
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক প্রয়োজনে পরিচালিত।
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ল্যাভরভ বলেন, কোনও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ যুদ্ধ নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তাঁর মতে, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়েও আলাপ-আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের পথেই অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক এবং পশ্চিমা শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেই মস্কো এই বার্তা দিয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে এখন কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
Advertisement



