• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 March, 2026

ইরান সঙ্কট ঘিরে নেহরুর ১৯৫৮ সালের সতর্কতা উল্লেখ বিজেপির

অমিত মালব্য তাঁর বার্তায় ইঙ্গিত দেন, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সময়ের অনুপযোগী মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক সংযমের পক্ষে সওয়াল করল বিজেপি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার আবহে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত টেনে সংযত অবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

অমিত মালব্য সমাজমাধ্যমে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো চিঠির উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। ১৯৫৮ সালে হাঙ্গেরির বিপ্লবী নেতা ইমরে নাগির মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গে নেহরু যে সতর্ক ও সংযত অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গই সামনে আনেন তিনি।

Advertisement

মালব্য যে উদ্ধৃতিটি প্রকাশ করেছেন, তাতে নেহরু লিখেছিলেন— ‘আমার মত স্পষ্ট হলেও, কোন রূপে এবং কোন সময়ে তা প্রকাশ করা উচিত, তা বিবেচনা করতে হবে। এই পর্যায়ে অন্তত সরকারি বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্ধৃতি বর্তমান ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংযত প্রতিক্রিয়ার পরোক্ষ সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরির বিদ্রোহের সময় ইমরে নাগি সংস্কারপন্থী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসেন। বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার দুই বছর পর, ১৯৫৮ সালের ১৬ জুন তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বুদাপেস্টে ফাঁসি দেওয়া হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড় তোলে। তবে ঠান্ডা লড়াইয়ের জটিল সমীকরণে নেহরু তৎকালীন সময়ে সরকারি স্তরে তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিক্রিয়া জানাননি। জোটহীন আন্দোলনের সূচনালগ্নে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির প্রতিফলন হিসেবেই তা ব্যাখ্যা করা হয়।

এবার ইরানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনেইয়ের মৃত্যু ঘিরে দেশেও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা কেন্দ্রের অবস্থানকে ‘নীরবতা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষিতে সরকার ইজরায়েল ও আমেরিকার প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, একাংশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক সঙ্কটে তাড়াহুড়ো করে বিবৃতি না দিয়ে কৌশলগত সময়ের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

অমিত মালব্য তাঁর বার্তায় ইঙ্গিত দেন, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সময়ের অনুপযোগী মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি সরাসরি ইরানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। তবে বর্তমান ‘বিশ্ব রাজনীতির পুনর্গঠন’-এর প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নেহরুর ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত সামনে এনে বিজেপির এই অবস্থান বর্তমান ইরান সঙ্কটকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement