পশ্চিম এশিয়া সংকট ঘিরে কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন। মঙ্গলবার তিনি ওমানের সুলতান এবং কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
Advertisement
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই শীর্ষ আরব নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন মোদী। একই সঙ্গে দিল্লি ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে।
Advertisement
বিদেশ মন্ত্রকের এক সরকারি মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার সময় থেকেই ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সে সময় সব পক্ষকে সংযম দেখানোর, উত্তেজনা না বাড়ানোর এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে বলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত শুধু তীব্রই হয়নি, একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণহানি ও ধ্বংস বেড়েছে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপও ব্যাহত হয়েছে। তিনি জানান, ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত। এই পরিস্থিতি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বাস ও কাজ করেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে মুখপাত্র জানান। তিনি বলেন, ‘তাঁদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও পরিস্থিতির প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না।’
ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এই ভৌগোলিক অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতির উপর পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাতেও কড়া আপত্তি জানিয়েছে ভারত। মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় কিছু ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে বা তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সংঘাতপীড়িত দেশগুলিতে ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলি স্থানীয় ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে এবং আটকে পড়া নাগরিকদের সবরকম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দূতাবাসগুলি সক্রিয়ভাবে কনস্যুলার পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সামাল দেবে বলে জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, অঞ্চলটির বিভিন্ন সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar তাঁদের সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সরকার।



