পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে কেন্দ্রের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রবিবার তীব্র আক্রমণ শানাল। দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের বিদেশনীতি এখন ‘সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত’ হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল যতই শক্তির প্রদর্শন করার চেষ্টা করুন না কেন, বাস্তব হল মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে। এর মূল্য দেশকে চোকাতে হচ্ছে।’
Advertisement
জয়রাম রমেশ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করেছেন। এমন ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন, যাঁর উস্কানিমূলক মন্তব্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পটভূমি তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আফগানিস্তান প্রশ্নে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে, যা ভারতের কূটনৈতিক স্বার্থের পক্ষে উদ্বেগজনক।
Advertisement
তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার বলেছেন যে, তিনি ভারতের রপ্তানির উপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে এই সামরিক পদক্ষেপ থামাতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনও নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন জয়রাম রমেশ।
এছাড়া ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকেও ‘একতরফা’ বলে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা বলেন, এই চুক্তি ভারতের স্বার্থকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, চুক্তির ঘোষণা প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে করানো হয়েছে, যা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করে জয়রাম রমেশ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল সফর এবং ইরান প্রসঙ্গে কেন্দ্রের অবস্থান ভারতের ঐতিহ্যগত নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর কথায়, ‘ভারতের ঐতিহাসিক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি এখন প্রশ্নের মুখে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে চীনকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছিলেন। অথচ সেই সময় লাদাখ সীমান্তে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছিলেন। এই মন্তব্য ভারতের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে এই তীব্র রাজনৈতিক তরজা নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। কেন্দ্র এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং বিশ্ব কূটনীতির জটিলতার মধ্যেই ভারতের অবস্থান নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।
Advertisement



