• facebook
  • twitter
Tuesday, 24 February, 2026

সিপিএম-বিজেপি আঁতাঁতে নাম বদল কেরলে, ‘বাংলা’ও আদায় করে ছাড়বে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

একই সঙ্গে কেরলবাসীকে দীর্ঘ দিনের দাবিপূরণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন

কেরলের নাম বদলে হল ‘কেরলম’। আর তাতে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নতুন ঠিকানা সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আর কেরলের নাম পরিবর্তনে সিলমোহর পরতেই তা নিয়ে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেরলে বিজেপি এবং সিপিএমের ‘যোগের’ কারণেই নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে নিশানা করেছেন তিনি। যা এখন লিখিত রূপে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও এদিন তিনি সুর চড়ান। তবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করে ছাড়বেন বলেই জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেরলবাসীকে দীর্ঘ দিনের দাবিপূরণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা দিতে গেলে পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়, আর বর্ণানুক্রম অনুযায়ী আমাকে সর্বশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।’ তিনি বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, দর্শন সব ভেবে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। বিধানসভায় এই প্রস্তাব দু’–তিনবার পাশ হলেও কেন্দ্রের অনুমোদন এখনও মেলেনি।

Advertisement

মমতা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের জন্য তৃণমূল সরকার ২০১৮ সালে প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে রাজ্যের নাম সব ভাষায়—বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি—‘বাংলা’ করা হয়। বিধানসভায় তা পাশ করা হলেও কেন্দ্র এখনও অনুমোদন দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যতবার বৈঠক করেছি, জানিয়েছি কিন্তু কোনও ফল হয়নি।’ বিজেপি সরকার বাংলা বিরোধী বলেও এদিন আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার কথায়, কেরলে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়েছে কারণ সেখানকার রাজনীতিতে বিজেপি ও সিপিএমের ‘যোগ’ গড়ে উঠেছে, যা এখন লিখিত রূপে স্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বাংলা বারবার কেন বঞ্চিত হবে?’ রাজ্যের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন আদায় করার বিষয়ে তিনি অনড়। তিনি আরও বলেন, ‘এক দিন তো আপনারা চলে যাবেন, বাংলার নাম আমরা আদায় করে ছাড়ব।’

নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সাংবিধানিক। প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকার প্রস্তাব পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রস্তাব খতিয়ে দেখে, ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা মতামত দেয়। অনুমোদনের পর প্রস্তাব বিল আকারে সংসদে পেশ করা হয়। সংসদে পাশ হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়।

কেরলের ক্ষেত্রে, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন  নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছিল, সব ভাষায়—এবং সংবিধানের অষ্টম তফসিলেও—রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ হওয়া উচিত। প্রস্তাবে যুক্তি ছিল, মালয়ালম ভাষায় নাম ‘কেরলম’, অথচ সংবিধানে প্রথম তফসিলে ‘কেরল’ রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা অনুমোদন দিলে কেরলের নতুন নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়। মমতার সাফ কথা, অন্য রাজ্যের নাম পরিবর্তনে কোনও আপত্তি নেই  কিন্তু বাংলার নাম পরিবর্তন তিনি করেই ছাড়বেন।

 

Advertisement