• facebook
  • twitter
Monday, 23 February, 2026

চলতি অর্থবর্ষেই ৫০০ অভিযোগপত্র জমার লক্ষ্যমাত্রা ইডির

চার্জশিটে গতি আনতে কড়া বার্তা

প্রতীকী চিত্র

তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেজন্য চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই অন্তত ৫০০টি চার্জশিট বা প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি গুয়াহাটিতে আয়োজিত তিন দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকদের।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন এবং বিভিন্ন জোনাল দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি চার্জশিট দাখিলের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জোর দেওয়া হয়েছে। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, এই লক্ষ্য পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নিতে হবে।

Advertisement

ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, একবার মামলা দায়ের হওয়ার পর সাধারণভাবে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র অত্যন্ত জটিল এবং ব্যতিক্রমী মামলাগুলিকে এই সময়সীমার বাইরে রাখা হবে। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংস্থা।

Advertisement

উল্লেখ্য, ইডির কাজের ধরণ নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন আদালতে, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও কিছু ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে। আদালতের তরফে কখনও তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা এবং কখনও অভিযোগ প্রমাণের আগেই দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্তদের আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইডির এই ত্রৈমাসিক সম্মেলনের প্রথা গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। এর আগে গুজরাতের কেভাড়িয়া এবং শ্রীনগরে এই ধরনের বৈঠক হয়েছিল। এবার গুয়াহাটিতে আয়োজিত বৈঠকে তদন্তের গতি বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত মামলায় ইডির সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যসভায় কেন্দ্র জানিয়েছে, গত বছরে এই ধরনের মামলার ৯৪.৮২ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে।

চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তদন্তকারী আধিকারিকদের উপর চাপ বাড়াল ইডি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে নিরপেক্ষতা ও আইনি মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Advertisement