• facebook
  • twitter
Sunday, 22 February, 2026

‘আপনারা তো নগ্নই’, কংগ্রেসকে কটাক্ষ মোদীর

উত্তরপ্রদেশের মীরটে এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। সম্মেলন চলাকালীন একদল যুবকের খালি গায়ে বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মীরটে এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, শতাব্দীপ্রাচীন দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ‘নোংরা ও নগ্ন রাজনীতি’র হাতিয়ার করেছে এবং এর ফলে বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, এআই সম্মেলন কোনও দলীয় কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল দেশের সম্মিলিত উদ্যোগ। সেই মঞ্চে পোশাক খুলে প্রতিবাদ জানানোকে তিনি আদর্শগত দেউলিয়াপনার প্রকাশ বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক বিদ্বেষে তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিরোধীরা তাঁর মা-কেও রেহাই দেয় না। মোদীর ভাষণে স্পষ্ট, তিনি এই ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ হিসেবে দেখছেন না।

Advertisement

 বরং বিরোধী রাজনীতির বৃহত্তর মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছেন। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার বিরোধিতায় কয়েকজন যুবক ভারত মণ্ডপম প্রেক্ষাগৃহে এআই সম্মেলন চলাকালীন ঢুকে পোশাক খুলে বিক্ষোভ দেখান। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খালি গায়ে বিক্ষোভ দেখানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কংগ্রেস। এই প্রতিবাদকে ঘিরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগে বিজেপি। যদিও কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করা হয়নি। তবুও রাজনৈতিক দায় এড়ানো কঠিন বলে মত শাসকদলের।

Advertisement

মোদীর কটাক্ষ, ‘আপনারা তো ইতিমধ্যেই নগ্ন, তা হলে আর পোশাক খোলার প্রয়োজন কেন পড়ল?’ তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস নিজের দেশকে বদনাম করতে ব্যস্ত। দেশের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যারা ভারতের সাফল্য হজম করতে পারছে না। কংগ্রেস বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানকে তার নোংরা এবং নগ্ন রাজনীতি করার জায়গায় পরিণত করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত ছিল এটা বিজেপির কোনও অনুষ্ঠান ছিল না। সেখানে বিজেপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন না। এই সম্মেলন ছিল গোটা দেশের জন্য।’

শুধু বিজেপি নয়, বিজেপিবিরোধী শিবিরের মধ্যেও এই কর্মসূচি নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ো মন্তব্য করেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ ধরনের আচরণ দেশের অগ্রাধিকার সম্পর্কে ভুল বার্তা দেয়। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করেও তিনি দায়িত্বশীলতার উপর জোর দেন।

এদিকে ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে এবং জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনের ঘটনা এখন জাতীয় রাজনীতির নতুন বিতর্কে পরিণত হয়েছে, যেখানে উন্নয়ন বনাম প্রতিবাদের ভাষা—দুইয়ের সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Advertisement