কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়। তাঁকে কর্মচ্যুত করবে না, বরং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।এমনটাই জানালেন করণ আদানি। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম সংখ্যক কর্মী দিয়েই বেশি উৎপাদন সম্ভব হবে। সংস্থাগুলি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে পারবে।
অদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করণ আদানি দিল্লিতে আয়োজিত অল ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা দিবস ও জাতীয় ব্যবস্থাপনা দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সংস্থাগুলিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।’
Advertisement
তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তির দ্রুত প্রয়োগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বড় সংস্থাগুলির দায়িত্ব কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের সময় কর্মীদের নতুনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দক্ষ করে তোলা সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত।’
Advertisement
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন করণ আদানি। তিনি জানান, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিন বছর তিনি একটি মিশনারি স্কুলে কাটিয়েছেন, যেখানে শৃঙ্খলা, স্বনির্ভরতা এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে মিশে চলার শিক্ষা পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর মোটর রেসিংয়ের প্রতি আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফর্মুলা ওয়ান প্রতিযোগিতা এবং কিংবদন্তি চালক মাইকেল শুমাখারের সময়কার রেস তাঁর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এই খেলায় প্রতিটি সেকেন্ডের ভগ্নাংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিখুঁত পরিকল্পনা ও দক্ষতার গুরুত্ব বোঝায়।’
ভারতে পুনরায় আন্তর্জাতিক মোটর রেস আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী করণ আদানি। তাঁর মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। পেশাগত জীবনের শুরুতে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কলেজ শেষ করার পরই তাঁকে মুন্দ্রা বন্দরে পাঠানো হয়। সেখানে কোনও অফিস বা নির্দিষ্ট আসন ছাড়াই সরাসরি মাঠে কাজ করে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান তিনি।
Advertisement



