শক্তিশালী দল, অভিজ্ঞ কোচ এবং সরকারি পুরস্কারের হাতছানি—এতসব ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার ভরাডুবি বঙ্গ ফুটবলের অন্দরমহলে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কোচ সঞ্জয় সেনের প্রশিক্ষণে এবং ইস্টবেঙ্গলের ৮ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে নিয়েও কেন ট্রফি এল না, তা নিয়ে এখন চলছে কাটাছেঁড়া। মাঠের বাইরের লড়াইয়েই কি বেশি ফোকাস দেওয়া হলো।ব্যর্থতার আগাম পূর্বাভাষে এমনি হয়।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পরিকাঠামো বা অব্যবস্থা নিয়ে কোচ সঞ্জয় সেন অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার চেয়ে আয়োজকদের সমালোচনাতেই শক্তির অপচয় হয়েছে বেশি। এর ফলে ফুটবলারদের মানসিক একাগ্রতা বা ‘ফোকাস’ বিঘ্নিত হয়েছে। সার্ভিসেসের মতো দলকে গ্রুপ পর্বে দুর্বল মনে করা হলেও, শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কোনো দলকেই ছোট করা উচিত নয়। দল গঠনের ক্ষেত্রে আইএফএ এবং কোচিং স্টাফেরা দীর্ঘ সময় পেলেও, কিছু নির্দিষ্ট ফুটবলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির মাঝপথে বেঙ্গল সুপার লিগে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দলের সংহতি বা ‘টিম কম্বিনেশন’ গড়ে ওঠেনি।
Advertisement
রবি হাঁসদার মতো স্ট্রাইকার প্রথম ম্যাচের পর টানা পাঁচ ম্যাচ গোল পাননি। মাঝমাঠের সাথে ফরোয়ার্ড লাইনের বোঝাপড়ার অভাব ছিল প্রকট। গতবারের সফল জুটি নরহরি শ্রেষ্ঠা বা রবি হাঁসদারা এবার সেই চেনা ছন্দে ছিলেন না। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফুটবলাররা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। এবারও ফুটবলারদের মনে সেই প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে ফুটবলারদের চূড়ান্ত ক্লান্ত দেখিয়েছে। প্রতিপক্ষ দলগুলি বয়সে তরুণ হওয়ায় তাদের মধ্যে যে লড়াকু মানসিকতা ছিল, বাংলার অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মধ্যে তা অনুপস্থিত ছিল।
Advertisement
বাংলার ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আইএফএ-ও দায় এড়াতে পারে না। প্রস্তুতির ফাঁকফোকর বা ফুটবলারদের মানসিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কঠিন সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কোচ-ফুটবলারদের বিতর্ক থেকে দূরে রেখে খেলায় মনোনিবেশ করানোর ক্ষেত্রে সংগঠনের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।
অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত ভরসা এবং মাঠের বাইরের প্রতিকূলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই বাংলার পতনের মূল কারণ। আই লিগ বা আইএসএল জয়ী কোচ সঞ্জয় সেনের স্ট্র্যাটেজি এবার বাংলার ফুটবল আবেগকে ট্রফি এনে দিতে ব্যর্থ হলো
Advertisement



