বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ২০৯টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল বিএনপি। এর ফলে আওয়ামি লীগের শাসনের অবসানের পর দেশে নতুন সরকার গঠনের পথ কার্যত প্রশস্ত হয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলে এই ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক মোড়’ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ঘোষণায় জানা গিয়েছে, মোট আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়ে এককভাবেই সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছে বিএনপি। ফলে জোটের উপর নির্ভর না করেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি তারা পেয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
দলীয় শিবিরে উচ্ছ্বাসের আবহ। নেতাদের বক্তব্য, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ‘মানুষ স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পক্ষে মত দিয়েছেন।’ নতুন সরকার গঠনের পর কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
Advertisement
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের বার্তা। আওয়ামির নেতৃত্বাধীন শাসনপর্বের পর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই পরিবর্তনের দিকে কৌতূহলী নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, পরাজিত শিবিরে আত্মসমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। দলের একাংশ মনে করছে, সংগঠনগত দুর্বলতা ও জনসংযোগে ঘাটতির ফলেই এমন ফলাফল হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০৯ আসনের জয়ে বিএনপি এখন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রশাসনিক রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Advertisement



