• facebook
  • twitter
Friday, 13 February, 2026

বেলডাঙা অশান্তি মামলায় ৩১ ধৃতের ভার্চুয়াল হাজিরা, কেস ডায়েরি নিয়ে জট কাটল না

পাল্টা রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘ওই ধারা প্রয়োগের বিষয়ে আগে হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। তার আগে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া ঠিক নয়।’

প্রতীকী চিত্র

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক গোলমালের ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতেই বহাল রয়েছে। তবে ওই ঘটনায় ধৃত ৩১ জনের সশরীরে হাজিরা অধরাই থেকে গেল। কলকাতা নগর দায়রা আদালতে বৃহস্পতিবারও তাদের হাজির করানো সম্ভব হয়নি। শেষমেশ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে তাঁদের আদালতে তোলা হয়।

জাতীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, রাজ্যের তরফে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না–মেলায় অভিযুক্তদের বহরমপুর থেকে কলকাতায় আনা যাচ্ছে না। সংস্থার আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘এস্কর্টের অভাবে আজও অভিযুক্তদের পেশ করা যায়নি। ৩১ জনের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জেল কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছেন। ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন করছি।’ দুপুরে ধৃতরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা হন। তিন জন নাবালক থাকায় তাঁদের আদালতে তোলা হয়নি।

Advertisement

এদিকে এ দিনও কেস ডায়েরি হস্তান্তর নিয়ে জট কাটেনি। আদালতের নির্দেশে বেলডাঙা থানার তদন্তকারী অফিসার–সহ রাজ্য পুলিশের পাঁচ কর্মী আদালতে হাজিরা দেন। তবে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিচারক জানান, দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ আপলোড হলে আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, এই গোলমালের সূত্রপাত এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় গোলমাল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সেই মামলার তদন্তভার যায় জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে। রাজ্য সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, তারা তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না।

বেআইনি কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের ১৫ নম্বর ধারা যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে হাইকোর্ট— এমনটাই জানানো হয়েছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করছি। রাজ্য সব নথি দিচ্ছে না।’

পাল্টা রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘ওই ধারা প্রয়োগের বিষয়ে আগে হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। তার আগে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া ঠিক নয়।’ তাঁদের আরও অভিযোগ, ‘নির্বাচন সামনে বলেই মামলা ঘিরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।’

সব মিলিয়ে, তদন্ত ও কেস ডায়েরি হস্তান্তর নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। আগামী সোমবার আদালতে পরবর্তী শুনানিতে এই জট কতটা কাটে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisement