• facebook
  • twitter
Monday, 9 February, 2026

খালিস্তানি বিবাদের টানাপোড়েনের পর ভারত–কানাডা সম্পর্কে উষ্ণতার আভাস

দোভাল ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি, দু’দিনের সফরে কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারির সঙ্গেও বৈঠক করেন

খালিস্তান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পরে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্বাভাবিক করার বার্তা মিলছে। খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহে কানাডার রাজধানী অটোয়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি ড্রুইনের বৈঠক হয়। এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল ।

দোভাল ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি, দু’দিনের সফরে কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারির সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে দুই দেশ জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার জন্য একটি অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় মাদক পাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বৈঠকে উভয় দেশই একে অপরের দেশে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগে সম্মত হয়েছে। এই অফিসারদের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান সম্ভব হবে। ফেন্টানিল-সহ বিপজ্জনক মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের কার্যকলাপ রুখতেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

এ ছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা নীতি, তথ্য বিনিময়, প্রতারণা, অভিবাসন আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই সফর নিয়মিত দ্বি-পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপেরই অংশ, যার মূল লক্ষ্য উভয় দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মার্চের শুরুতে ভারত সফরে আসার কথা। এই সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইউরেনিয়াম, বিভিন্ন খনিজ ও শক্তি খাতে একাধিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কানাডা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দিল্লি ও অটোয়া। 

কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মার্চ মাস থেকেই ভারত ও কানাডার মধ্যে স্থগিত থাকা অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এই পর্বে পরমাণু শক্তি, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিবেশ ও এআই-সহ একাধিক ক্ষেত্রে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রের খবর, সম্ভাব্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের জন্য ২৮০ কোটি কানাডা ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮,৭৪৫ কোটি টাকা) মূল্যের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি। পরমাণু শক্তি উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এই প্রেক্ষাপটে অজিত দোভালের কানাডা সফরকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা নিয়ে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর অভিযোগের পরে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। কূটনীতিক বহিষ্কারও হয়। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে নীরব কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে।

Advertisement