লখনউ, ৮ ফেব্রুয়ারি— বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বিরোধী শিবিরে কৌশল ঠিক করতে বৈঠক করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। দলীয় সদর দপ্তরে বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ফর্ম-৭ ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে সমাজবাদী পার্টির সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অখিলেশ যাদব জানান, আগেই এক সাংবাদিক বৈঠকে ফর্ম-৭ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সরকার কিছু পেশাদার সংস্থাকে নিয়োগ করেছে, যাদের কর্মীরা দিল্লি ও লখনউ-সহ একাধিক জায়গা থেকে ভোটার তালিকার তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।
Advertisement
অখিলেশের দাবি, যেসব বুথে অতীতে সমাজবাদী পার্টি জিতেছে, সেগুলি চিহ্নিত করে বিপুল সংখ্যায় ছাপানো ফর্ম-৭ পাঠানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য, ওই বুথের ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া। এই ইস্যুতে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
Advertisement
তিনি বলেন, ‘মাঠে থাকা সাংবাদিক ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই আমরা তথ্য পেয়েছি।’ দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অখিলেশ অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলেই ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বিহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর মাধ্যমে বিহারে নির্বাচন প্রভাবিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একই কৌশল উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। তিনি বলেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও কমিশনকে ‘বিজেপি কমিশন’ বলছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কমিশনের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
সমাজবাদী পার্টি প্রধান দাবি করেন, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে তার নিরপেক্ষতা প্রমাণের আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে, তাঁর কথায়, ‘এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত বলে গণ্য হবে।’
Advertisement



