বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দরাজ রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বাড়ানো হল মহার্ঘ ভাতা। চার শতাংশ হারে বাড়াল ডিএ। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়া যাবে। এর ফলে একধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়তে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন।
রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের এটা শেষ অধিবেশন। ফলে ডিএ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাজেট বরাদ্দ হয় কিনা, তা নিয়ে নজর ছিল সবার।
Advertisement
তথ্য বলছে, এতদিন ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা হওয়ায় এবার তা বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশে। এখনও কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ ফারাক রয়ে গেল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। রাজ্য বাজেট ঘোষণার আগে পর্যন্ত কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪০ শতাংশ। নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ায় সেই ফারাক কমে দাঁড়াল ৩৬ শতাংশে।
Advertisement
উল্লেখ্য, এদিনই সুপ্রিমকোর্ট ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায়দান করেছে। মার্চের মধ্যে বকেয়া ২৫ শতাংশ এবং মে মাসের মধ্যে বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
নবান্ন সূত্রে খবর, ডিএ বৃদ্ধির সুফল শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, পাবেন সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনসভার বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি ও আধা-সরকারি দপ্তর, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার কর্মচারীরাও। অর্থাৎ রাজ্যের এক বৃহৎ কর্মীসমাজ এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন। একইভাবে উপকৃত হবেন পেনশন প্রাপকেরাও।
একইসঙ্গে এদিন অন্তর্বর্তী বাজেটে সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর গঠন করা হয়েছিল ষষ্ঠ পে কমিশন। এর চেয়ারম্যান ছিলেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারকে। ২০১৯ সালে কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়। গত বছরের জুন মাসে হাইকোর্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যে মহার্ঘ্য ভাতা বকেয়া রয়েছে, তা পঞ্চম পে কমিশনের অধীনে।
Advertisement



