• facebook
  • twitter
Thursday, 5 February, 2026

মহার্ঘ ভাতার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মিষ্টিমুখ আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের

ধর্মতলায় তাঁদের অবস্থানমঞ্চে লাড্ডু বিলি করা হয়

আজ ডিএ মামলার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রায় অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ আগামী মার্চের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠন করার দিয়েছে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মিষ্টিমুখ শুরু হয়েছে ধর্মতলার শহিদ মিনারে অবস্থানরত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চে।

২০০৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে ৪০ শতাংশের ফারাক রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই ফারাকের বিষয়ে কোনও রায় দেয়নি।

Advertisement

সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎগুপ্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বকেয়া এরিয়ারের ২৫ শতাংশ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে দিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এখনও আমাদের ৪০ শতাংশ বকেয়া ডিএ (কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র ফারাক) প্রাপ্য রয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার লড়াই করে বুঝে নেব।‘

Advertisement

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের এই রায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা। ধর্মতলায় তাঁদের অবস্থানমঞ্চে লাড্ডু বিলি করা হয়। ডিএ মামলায় অন্যতম পক্ষ সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘আমরাও যাতে কমিটির সঙ্গে বসতে পারি, সেই আবেদন করব। সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্য যে মোটেই খারাপ নয়, বরং (ডিএ) দেওয়া যায়— আমরা সেই তথ্য তুলে ধরব।‘

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি। ভাস্কর বলেন, ‘কর্মচারী সমাজ পথে না-নামলে এই ২৫ শতাংশ তাঁরা পাবেন না। ৩১ মার্চের মধ্যে ঘাড় ধরে সরকারকে এই রায় মানতে বাধ্য করব।‘ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের অন্যতম নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। এটাই হওয়ার ছিল। দীর্ঘ দশ বছরের লড়াইয়ের পর এই জয় শুধু আমাদের রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের জয় নয়, সারা দেশের কর্মচারীদের জয়।‘

অন্য দিকে, তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। মুখ্যমন্ত্রী তো কোনও দিন বলেননি যে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেবেন না। আমাদের বিশ্বাস সময়-সুযোগ বুঝে তিনি নিশ্চয়ই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র দাবি পূরণ করতেন। এখন যখন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তখন রাজ‍্য সরকার যে ভাবে সেই নির্দেশ পালন করবে, সেই প্রক্রিয়ার পাশে আমরা থাকব।‘

 

 

Advertisement