উত্তরবঙ্গে এইমস কিংবা এইমসের মতো কোনও কেন্দ্রীয় হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা এবারও নেই কেন্দ্রীয় বাজেটে। আর তা ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল দক্ষিণ দিনাজপুরে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এইমস বা এইমসের আদলে কেন্দ্রীয় হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু ছিল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার একাধিক সভা ও প্রচারে এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছিলেন বলে দাবি তৃণমূলের। কিন্তু এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরবঙ্গে কোনও নতুন হাসপাতাল বা এইমস সংক্রান্ত ঘোষণা না থাকায় ফের বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
Advertisement
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে এইমস নিয়ে প্রচার চালালেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। প্রথমে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এইমস হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। লোকসভা নির্বাচনের আগে আবার নতুন করে উত্তরবঙ্গে এইমস নিয়ে প্রচার শুরু হলেও ভোট মিটতেই সেই বিষয়টি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ।
Advertisement
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘রায়গঞ্জে এইমস করার কথা বলেছিল বিজেপি, পরে আবার বালুরঘাটের নাম তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। ভোটের আগে আবার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করতে পারে বিজেপি, তবে সেই ফাঁদে আর কেউ পা দেবে না।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘এই জেলার জন্য বিজেপি এখনও পর্যন্ত একটি মহিলা কলেজ, পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটিআই কলেজের কথাও বলেনি। সেখানে এইমসের প্রতিশ্রুতি শুধুই ফাঁকা কথা।’
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক অশোককুমার লাহিড়ী পালটা অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলার হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। সামান্য সমস্যাতেই রোগীদের বাইরে রেফার করা হয়। রাজ্য সরকার আগে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই সমস্যাগুলির সমাধান করুক। কেন্দ্র তার কাজ যথাসময়ে করবে।’
উল্লেখ্য, বাম আমলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি হয়েছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বালুরঘাটে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং গঙ্গারামপুরে আরও একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের দাবি। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হাসপাতাল না হওয়ায় উত্তরবঙ্গে চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও একবার সামনে এল।
Advertisement



