লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না বহু মহিলা, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারি ভাতা বন্ধ থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। অভিযোগ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাকচা ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে থাকায় সেখানকার মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না। এই অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করা হয়|
এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৭ হাজার মহিলা দীর্ঘদিন ধরে ভাতা থেকে বঞ্চিত বলে দাবি। এই অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেন বাকচা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা সুনীতা মণ্ডল সাহু। এদিন সেই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, মামলার কারণে যেন কোনোভাবেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ না রাখা হয়। পাশাপাশি, এই ভাতা বন্ধ থাকার অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
Advertisement
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে সাধারণভাবে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা করে দেওয়া হয়। অথচ এই দুই পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাত হাজার মহিলা টানা কয়েকমাস ধরে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আইনজীবীর আরও অভিযোগ, জেলার অন্যান্য এলাকার মহিলারা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা পেলেও শুধুমাত্র বাকচা ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।
Advertisement
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী অমল সেন আদালতে জানান, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের তরফে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়। ওই দপ্তরের কাছে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই অনুসন্ধানের রিপোর্ট আদালতে পেশ করার জন্য তিনি সময় চান। আদালত সেই আর্জি মঞ্জুর করে রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, তদন্ত বা মামলার অজুহাতে কোনও প্রাপকের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ রাখা যাবে না।
Advertisement



