• facebook
  • twitter
Thursday, 22 January, 2026

শিক্ষাক্ষেত্রে ফের স্বীকৃতি রাজ্যের

জাতীয় মঞ্চে ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’

শিক্ষাক্ষেত্রে ফের বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ। জাতীয় স্তরে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হল রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধুনিক ডিজিটাল পোর্টাল ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’। প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানানো হয়েছে ‘গভর্ন্যান্স নাও’-এর ষষ্ঠ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট ও অ্যাওয়ার্ডস-এ। ‘এক্সিলেন্স ইন ই-লার্নিং, অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে এই পোর্টাল। বুধবার সমাজমাধ্যমে এই সাফল্যের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন নিজের সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধুনিকীকৃত পোর্টাল ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’ ‘গভর্ন্যান্স নাও’-এর ষষ্ঠ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট ও অ্যাওয়ার্ডস-এ পুরস্কৃত হয়েছে। এক্সিলেন্স ইন ই-লার্নিং, অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম’ বিভাগে এই সম্মান পেয়েছে প্রকল্পটি।’ রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধুনিকীকৃত পোর্টাল জাতীয় স্তরে সম্মানিত হওয়ায় তিনি গর্বিত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার পথে পশ্চিমবঙ্গ সঠিক দিশায় এগোচ্ছে।

Advertisement

‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’ মূলত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ডিজিটাল মেরুদণ্ড। এই পোর্টালের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিদ্যালয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকে। আগে যেখানে কাগজ-কলমের ফাইলের উপর নির্ভর করতে হত, এখন সেখানে কয়েকটি ক্লিকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুল এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-লার্নিং, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যকারিতার জন্যই এই পোর্টালকে সম্মান জানানো হয়েছে। কোভিড মহামারি পর্বে স্কুল বন্ধ থাকাকালীন অনলাইন শিক্ষার যে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখানে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল ও তার আনুষাঙ্গিক অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’ সেই ব্যবস্থারই আরও উন্নত সংস্করণ, যেখানে ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন করা হয়েছে।

এই পোর্টালের মাধ্যমে পড়ুয়াদের উপস্থিতি, মিড-ডে মিলের নজরদারি, শিক্ষকের সংখ্যা ও ঘাটতির মতো তথ্য সহজেই পাওয়া যায়। ফলে প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক হচ্ছে।  এছাড়া পঠনপাঠনের গুণমান বাড়াতেও এটি সাহায্য করে। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প যেমন- কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী ও সবুজ সাথী ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’-এর এই জাতীয় সম্মান রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল অগ্রগতির আরেকটি মাইলফলক বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।

Advertisement