নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রাজ্যের দুই নার্সের মধ্যে একজন এখনও কোমায় রয়েছেন। অন্য একজনের অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে দুই জনেরই সঙ্কট এখনও কাটেনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কয়েকদিন আগে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই নার্স বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই দুই জনের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত দুইজনকেই ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। সম্প্রতি পুরুষ নার্সকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনা হয়েছে। তাঁর জ্ঞান ফিরেছে। নিজে থেকে খেতেও পারছেন তিনি। তবে ওই মহিলা নার্সের অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মহিলা নার্সের অবস্থার উন্নতি না হলেও কোনও অবনতিও হয়নি। দুই জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নিপা ভাইরাস নিয়ে রাজ্যজুড়ে আতঙ্কের মাঝে স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, ওই দুই নার্স ছাড়া রাজ্যে এখনও নতুন করে কেউ নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। যাঁরা গত কয়েকদিন এই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
এই গাইডলাইন অনুযায়ী, নিপা আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, শরীরের তরল, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট যাঁর সংস্পর্শে আসবে, তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বদ্ধ ঘরে আক্রান্তের সঙ্গে থাকা মানেই হাই রিস্ক হিসেবে গণ্য হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে দু’বার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে হবে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে । যাঁদের মধ্যে উপসর্গ আছে, তাঁদের নমুনা দ্রুত আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপাতত খেজুর রস, কাটা ফল, প্যাকেটজাত ফলের রস না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনার মতোই মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখা উচিত। সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিপা আতঙ্ক বাড়লেও আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। তবে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
রাজ্যের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পেয়ে কেন্দ্রের এক বিশেষ দল জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতন করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিকে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement