আশ্চর্যজনকভাবে সাংবাদিক ও সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশ হত্যা এবং নালাসোপাড়া অস্ত্র-গোলাবারুদ মামলায় অভিযুক্ত শ্রীকান্ত পাঙ্গারকর মহারাষ্ট্রের পুরভোটে জয়ী হয়েছেন। জালনা পুর কর্পোরেশন তথা জেএমসি-র নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন তিনি। পাঙ্গারকর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিজেপি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মোকাবিলা করতে হয় তাঁকে। সব প্রার্থীকে পিছনে ফেলে ওই ওয়ার্ডে ২ হাজার ৬২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন পাঙ্গারকর। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতির জগতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
গৌরী লঙ্কেশ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং নালাসোপাড়া বোমা হামলায় অভিযুক্ত পাঙ্গারকরের জয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। নির্বাচনী যোগ্যতা, রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রার্থীর তথ্য পঞ্জিকা পরীক্ষা করে দেখা হয় তার বিরুদ্ধে কোনও রকম অপরাধমূলক কাজের উল্লেখ আছে কিনা। ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত পাঙ্গারকরের জয়ের ফলে ভোটারদের সচেতনতা সেই বিতর্ককে আবার উসকে দিয়েছে। যদিও নির্বাচনী আধিকারিকদের যুক্তি, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া অভিযুক্তকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়ার কোনও আইনি বাধা নেই।
Advertisement
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত শিবসেনার সদস্য হিসেবে পাঙ্গারকর জালনা পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ২০১১ সালে শিবসেনার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। পরে তিনি ডানপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। নালাসোপাড়ায় বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ২০১৮ সালের আগস্টে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড পাঙ্গারকরকে গ্রেপ্তার করে এবং বিস্ফোরক আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং বোইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন তথা ইউএপিএ-র অধীনে মামলা করে।
Advertisement
এদিকে সাংবাদিক ও সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে গ্রেপ্তার হন পাঙ্গারকর। সাংবাদিক ও সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশকে ২০১৭-র ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে তাঁর বাসভবনের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি তাঁর বাবা পি লঙ্কেশ-এর শুরু করা কন্নড় সাপ্তাহিক ‘লঙ্কেশ পত্রিকা’-য় সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন এবং ‘গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকা’ নামে তাঁর নিজস্ব পত্রিকা চালাতেন। সেই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পাঙ্গারকর ৬ বছর কারাবাস ভোগ করার পর ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর মাসে কর্ণাটক হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। যদিও সেই মামলার মীমাংসা এখনও হয়নি। বর্তমানে তিনি দুটি মামলাতেই জামিনে রয়েছেন।
২০২৪-এর অক্টোবরে শিন্দেসেনায় যোগ দিয়ে রাজনীতিতে আবার যোগ দেন পাঙ্গারকর। কিন্তু পুরভোটে টিকিট না পাওয়ায় শিন্দেসেনার সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ত্যাগ করেন। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
Advertisement



