• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

মদ্যপ প্রতিবেশীর হামলায় দলিত কৃষকের মৃত্যু, কানপুরে গ্রেপ্তার ৬

প্রবীণ কুমার সিং জানান, ‘প্রথমে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দেবকীনন্দনের মৃত্যুর পরে সেই মামলায় বিএনএস-এর খুনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে।'

প্রতীকী চিত্র

ফের বিতর্কের কেন্দ্রে যোগ্য রাজ্য। উচ্চ বর্ণের এক প্রতিবেশীর মদ্যপ আচরণকে কেন্দ্র করে এক দলিত কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু। বিনা উসকানিতে দলিত কৃষকের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। কানপুর দেহাত জেলার মালিকপুর গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। অভিযুক্ত গোবিন্দ সিং, তাঁর স্ত্রী-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষকের নাম দেবকীনন্দন পাসোয়ান, বয়স প্রায় ৫০ বছর। জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় গোবিন্দ সিং আচমকাই দেবকীনন্দনের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করে। সেই আচরণের প্রতিবাদ জানাতেই দেবকীনন্দন ও তাঁর স্ত্রী মমতা পাসোয়ানের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় গোবিন্দের স্ত্রী ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তিনি নিজের ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়দের ফোন করে ডেকে আনেন।

Advertisement

নিহতের মেয়ের এফআইআর অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই গোবিন্দ সিং ও তাঁর আত্মীয়রা দল বেঁধে দেবকীনন্দন ও তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করতে শুরু করে। মারধরের মধ্যেই গুরুতর আহত হন দেবকীনন্দন। তাঁর স্ত্রী মমতাও আহত হন। অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে গেলে দেবকীনন্দনের মেয়ে গোমতীকেও ধাক্কা মেরে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

Advertisement

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু দেবকীনন্দনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কানপুরের সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতজনিত কারণেই মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেবকীনন্দনের মৃত্যুর খবর পেতেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরে অভিযান চালিয়ে গোবিন্দ সিং, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের আত্মীয় মিলিয়ে মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিবলি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রবীণ কুমার সিং জানান, ‘প্রথমে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দেবকীনন্দনের মৃত্যুর পরে সেই মামলায় বিএনএস-এর খুনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এফআইআরে নাম থাকা সব অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে কোনও অশান্তি এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisement