• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

এসআইআর শুনানিতে হাজির দেব, দায়িত্ব পালন করেও কমিশনের কাছে মানবিকতার আবেদন

'আমাদের লাইনে দাঁড়াতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যারা বৃদ্ধ, অসুস্থ তাঁদের লাইনে দাঁড়ানো সমস্যার। কমিশনকে বলব, তাঁদের যদি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা যায়।'

রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বুধবার শুনানিতে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেতা দেব (দীপক অধিকারী)। যাদবপুরের কাটজুনগরে নির্দিষ্ট শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন। জানা গিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে কিছু তথ্যগত ত্রুটির কারণেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব জানান, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আগেও লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল, এটাই এখন নিউ-নর্মাল।যেটা করা দরকার, সেটাই করেছি।‘  তবে এখানেই থামেননি সাংসদ-অভিনেতা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement

দেবের অভিযোগ, বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদের যেভাবে শুনানির জন্য ডেকে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে, তা অমানবিক এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা উচিত। প্রয়োজনে কমিশন বাড়িতে কর্মী পাঠিয়ে প্রবীণ ও গুরুতর অসুস্থ ভোটারদের নথি যাচাই ও শুনানির কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

Advertisement

এসআইআর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোটবন্দীর সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন দেব।তিনি  জানান, নোটবন্দীর সময়েও সবাইকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল এবং তখন তিনি দলের অবস্থানের বাইরে গিয়েও সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টেনে তিনি স্পষ্ট করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এভাবে সকলকে লাইনে দাঁড় করানো যুক্তিসঙ্গত নয়।

রাজ্য রাজনীতিতে যখন এসআইআর নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন একজন সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেতার এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দেবের মন্তব্যে একদিকে যেমন আইন মানার বার্তা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে মানবিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্ট আবেদনের দিকটিও উঠে এসেছে।

Advertisement