ক্রিকেটার মহম্মদ শামির পর এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন বাংলা দলের ক্রিকেট কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তিনি হাওড়ার সালকিয়ার ভোটার। সালকিয়া কেন্দ্রেই তাঁকে এসআইআরের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। লক্ষ্মীরতন জানিয়েছেন, দল নিয়ে তিনি বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন। সময় পেলেই শুনানিতে যাবেন। শুনানির নামে খেলোয়াড়দের হেনস্থার প্রতিবাদে সোমবার পথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন প্রাক্তন খেলোয়াড়রা।
সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়ান ডে টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফি খেলতে দলবল নিয়ে রাজকোটে ছিলেন লক্ষ্মীরতন। যদিও সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলা। এই টুর্নামেন্ট চলাকালীনই ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে এসআইআরের জন্য ডাকায় বিতর্ক শুরু হয়। শামি বাংলার হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলেছেন। তিনিও জানিয়েছেন, ক্রিকেট ম্যাচের জন্য তিনি বাইরে রয়েছেন। সেই কারণে এসআইআরের শুনানিতে পরে যাবেন।
লক্ষ্মীরতনের একটি রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরে, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে জিতে তিনি রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও হন। পরে অবশ্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাজনীতি ছাড়েন। বাংলা তথা ভারতীয় দলের, আরও এক প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে লক্ষ্মীরতন শুক্লর ফেলে যাওয়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদ পান।
মহম্মদ শামি, লক্ষ্মীরতন শুক্লদের পাশাপাশি প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন, কম্পটন দত্ত, অলোক মুখোপাধ্যায়রাও এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। এসআইআরের নামে খেলোয়াড়দের হেনস্থা করা হচ্ছে– এর প্রতিবাদে সোমবার পথে নামেন প্রাক্তন খেলোয়াড়রা। ভবানীপুর ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে মালা দিয়ে শুরু হয় এই কর্মসূচি। এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস, অলোক মুখোপাধ্যায়, মানস ভট্টাচার্য-সহ ময়দানের একাধিক খেলোয়াড়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ এই প্রতিবাদে শামিল হন। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, যাঁরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বা এখনও প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁদেরও কি নিজেদের বৈধ ভোটার বলে প্রমাণ করতে হবে?
Advertisement