বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের একবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়ে দু’বার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তিনি। মোট পাঁচটি চিঠি দিলেন মমতা। এর আগে গত শনিবার শুনানির নোটিস সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিন পাতার চিঠিতে চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সোমবারের এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এসআইআর-এ যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। যাচাইয়ের পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
Advertisement
২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছে, তাঁদের অনেককেই অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তাঁরা নিজেরাই বা উত্তরাধিকারের মাধ্যমে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং করা। ফলে নতুন করে শুনানির প্রয়োজন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও বিশেষ আপত্তি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement
পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ফলে নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের তথ্যে ভুল ঢুকে পড়ছে বলে দাবি করেছেন মমতা। এর ফলে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটার সমস্যার মুখে পড়ছে। গত ২৩ বছরে ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে তথ্য সংশোধন করে অনেককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
কমিশন নিজের তৈরি করা আইনি প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে, প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী। এ ছাড়া, নামের সামান্য বানানগত পার্থক্য, বয়সের ছোটখাটো ভুলের মতো বিষয় নিয়েও শুনানির নোটিস জারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা খুব ছোট, যা অফিসে বসেই ঠিক করা যায়। তার বদলে মানুষকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে সময় এবং টাকা নষ্ট করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন নিজেদের পুরনো নির্দেশই মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এর আগে কমিশন বলেছিল, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে না-মিললে ভোটারকে নোটিস দেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সব তথ্য মিলেছে, তাঁদেরকেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে।‘ চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে। শুধু সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করাই নয়, প্রশাসনিক যন্ত্রকেও অযথা চাপের হাত থেকে মুক্ত রাখা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করাই এই হস্তক্ষেপের লক্ষ্য হওয়া উচিত, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।
গত শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগে ২০ নভেম্বর, ২ ডিসেম্বর, ৩ জানুয়ারি এবং ১০ জানুয়ারি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই শুনানির কাজ। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তাতে যাতে কোনও গন্ডগোল না থাকে অর্থাৎ কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, সেই কারণেই তৃণমূলের এই লড়াই বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



