• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

মডেল বাসেই মহাকাশের পাঠ, খুদেদের বিজ্ঞানচর্চায় ইসরোর অভিনব উদ্যোগ

ইসরোর এই বিশেষ প্রদর্শনী পড়ুয়াদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বাড়াবে বলেই মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ।

প্রশিক্ষণের সময় স্কুল পড়ুয়ারা।

স্কুল স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের মহাকাশ বিজ্ঞানকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র। ইসরোর ব্যবস্থাপনায় নর্থ-ইস্টার্ন স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের উদ্যোগে শনিবার বানবোল হাইস্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমী মহাকাশ বিজ্ঞান প্রদর্শনী। মেঘালয় থেকে আসা একটি বিশেষ মডেল বাসের ভিতরেই গড়ে তোলা হয় সম্পূর্ণ মহাজাগতিক প্রদর্শনী ক্ষেত্র।

এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল, একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাই নীচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে মহাকাশ বিজ্ঞানের পাঠ দেওয়া। এতদিন বই বা মোবাইলের পর্দায় দেখা ইসরো, মহাকাশযান ও স্যাটেলাইট—এ বার সেগুলি সামনে থেকে দেখার সুযোগ পায় পড়ুয়ারা।

Advertisement

এই প্রদর্শনীতে বানবোল হাইস্কুল, বানবোল বালিকা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাজে দক্ষিণাল জুনিয়ার হাইস্কুলের প্রায় ৫০০ জন পড়ুয়া অংশ নেয়। মডেল বাসের ভিতরে সাজানো ছিল গ্রহ, উপগ্রহ, রকেট, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযানের বিভিন্ন মডেল। বানবোল হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা সহজ ভাষায় খুদেদের বোঝান মহাকাশযান কীভাবে কাজ করে, কী ভাবে স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, কিংবা রকেট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় সেসব বিষয়ে।

Advertisement

এই প্রদর্শনী থেকে চন্দ্রযান, মঙ্গলযান, চন্দ্রপৃষ্ঠ, রকেট লঞ্চ প্যাড, বায়ুমণ্ডল এবং স্যাটেলাইট সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারে পড়ুয়ারা। অষ্টম শ্রেণির আকাশ বর্মন বলে, ‘এতদিন মোবাইলে এসব দেখতাম। আজ সামনে থেকে মহাকাশযান আর স্যাটেলাইট সম্পর্কে জানতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ একই কথা জানায় ভূমিকা দাসও।

ছোট ভাইবোনদের পড়াতে পেরে খুশি একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। মন্দিরা বর্মন, পরিমল বর্মন, জয়দীপ রায় ও মনীশ রায় জানায়, মডেলের মাধ্যমে বোঝানোয় খুদেরা খুব সহজেই বিষয়গুলো ধরতে পারছে। মন্দিরার কথায়, ‘মহাকাশে স্যাটেলাইট আর মহাকাশযান কী ভাবে কাজ করে, সেটা নিজেরাও শিখছি, আবার ছোটদেরও বোঝাতে পারছি।’

শনিবার এই প্রদর্শনীতে বানবোল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক চন্দ্রনারায়ণ সাহা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বিজ্ঞানকে জীবন্ত করে তুলতে ইসরোর এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়।’

ইসরোর এই বিশেষ প্রদর্শনী পড়ুয়াদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বাড়াবে বলেই মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ।

Advertisement