রতন ভট্টাচার্য
ডাকবাক্সের যুগ শেষ, কিন্তু মানুষের যোগাযোগের আকুলতা আজও অটুট। একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বিপ্লব আমাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে, আর সেই পরিবর্তনের ভেতরেই নতুনভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা। তাঁর কণ্ঠস্বর আজও তরুণদের কানে বাজে— ‘উঠো, জাগো, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থেমো না।’ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে ডিজিটাল বিভাজন এখনও স্পষ্ট— গ্রামীণ শিক্ষার্থী, মেয়েরা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনেক সময় প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিবেকানন্দের দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষা ও প্রযুক্তি হতে হবে সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য। সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাশ্রয়ী সংযোগ, স্থানীয় ভাষায় ডিজিটাল সম্পদ এবং কমিউনিটি লার্নিং হাব তৈরি করে, তবে শিক্ষা আর বিশেষ সুবিধা নয়, বরং মৌলিক অধিকার হয়ে উঠবে। বিবেকানন্দের বাস্তব আধ্যাত্মিকতার উপর জোর— গরিবের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা, মানবসেবাকে পূজা হিসেবে গ্রহণ করা— ডিজিটাল উদ্যোগকে সামাজিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দিতে অনুপ্রাণিত করে।
Advertisement
যুবসমাজের প্রতি বিবেকানন্দের বিশ্বাস ছিল অটল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস তরুণ প্রজন্মের উপর… তারা সিংহের মতো সমস্যার সমাধান করবে।’ আজকের তরুণরা ইতিহাসের সবচেয়ে সংযুক্ত প্রজন্ম। তারা সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন সহযোগিতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ে দক্ষ। কিন্তু নেতৃত্ব কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন দৃষ্টি, শৃঙ্খলা ও সেবার মনোভাব। কর্মযোগের দর্শন— নিঃস্বার্থ কর্ম— ডিজিটাল যুগের নেতৃত্বকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তরুণরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারে সামাজিক কল্যাণে— স্থানীয় সমস্যার সমাধানে অ্যাপ তৈরি, সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা, কিংবা ন্যায় ও স্থায়িত্বের জন্য অনলাইন প্রচারণা চালানো। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতির মধ্যে সংলাপ গড়ে তুলতে পারে, যা তাঁর সার্বজনীন ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণরা বহুবিধ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী, তারা এই ডিজিটাল বহুত্ববাদের দূত হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বেদান্তের পুনর্ব্যাখ্যা— ঐক্যের দর্শন— আজও প্রাসঙ্গিক। একটি বিশ্ব যেখানে ভ্রান্ত তথ্য ও মেরুকরণ বেড়ে চলেছে, সেখানে মানবতার একত্বের উপর তাঁর জোর তরুণদের অন্তর্ভুক্তির পথে পরিচালিত করতে পারে।তাঁর বেদান্তকে ঐক্যের দর্শন হিসেবে পুনর্ব্যাখ্যা আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
Advertisement
একটি ডিজিটাল বিশ্ব যেখানে বিভাজন, ভ্রান্ত তথ্য ও মেরুকরণ বেড়ে চলেছে, সেখানে মানবতার একত্বের উপর তাঁর জোর তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির পথে পরিচালিত করতে পারে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতির মধ্যে সংলাপ গড়ে তুলতে পারে, যা তাঁর সার্বজনীন ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণরা, যারা বহুবিধ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী, তারা এই ডিজিটাল বহুত্ববাদের দূত হয়ে উঠতে পারে, দেয়াল নয়, সেতু নির্মাণ করতে পারে।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণ উদ্যোক্তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নত করতে। তাঁর নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা মানে উদ্ভাবনকে কেবল লাভ নয়, সহানুভূতির দ্বারা পরিচালিত করা। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ডিজিটাল আসক্তি, ভ্রান্ত তথ্য ও বৈষম্য প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করতে পারে। কিন্তু বিবেকানন্দের শিক্ষা এখানে দিক নির্দেশক। তাঁর শৃঙ্খলার আহ্বান বিভ্রান্তি প্রতিহত করতে পারে; সত্যের উপর তাঁর জোর মিথ্যাকে প্রতিহত করতে পারে; অন্তর্ভুক্তির উপর তাঁর দৃষ্টি বিভাজন দূর করতে পারে। আজ দক্ষিণ এশিয়া এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশাল তরুণ জনসংখ্যা নিয়ে এই অঞ্চল অভূতপূর্ব সুযোগের মুখোমুখি। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে নেতৃত্ব হতে হবে নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী। বিবেকানন্দের শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকেরা এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে যা দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্রও গড়ে তোলে, আর তরুণ নেতারা প্রযুক্তিকে সেবার পাশাপাশি সাফল্যের জন্য ব্যবহার করতে পারে। স্বামী বিবেকানন্দের কণ্ঠস্বর আজও প্রতিধ্বনিত হয়— শিক্ষা ও নেতৃত্বের প্রকৃত লক্ষ্য কেবল অগ্রগতি নয়, জাগরণ। শক্তি, সহানুভূতি ও ঐক্যের জাগরণ। তাঁর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্মের আসল সারমর্ম বিভাজনে নয়, ঐক্যে; বর্জনে নয়, গ্রহণে। তাঁর শিকাগো ভাষণের সেই অমর আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক: “সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি এবং তার ভয়ঙ্কর সন্তান উগ্রতা পৃথিবীকে বহুবার রক্তে ভিজিয়েছে। কিন্তু তাদের সময় শেষ হয়েছে।” এই বার্তা আজও আমাদের পথ দেখায়। ডিজিটাল যুগে, যখন প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে, তখন বিবেকানন্দের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানুষের মধ্যে যে পরিপূর্ণতা ইতিমধ্যেই আছে, সেটিই জাগ্রত করতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে ডিজিটাল বিভাজন এখনও বিদ্যমান, সেখানে এই নীতি প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দিকে ইঙ্গিত করে। বিবেকানন্দের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান দাবি করে যে গ্রামীণ শিক্ষার্থী, মেয়েরা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন ডিজিটাল বিপ্লব থেকে পিছিয়ে না থাকে। সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাশ্রয়ী সংযোগ, কমিউনিটি লার্নিং হাব এবং স্থানীয় ভাষায় ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ করতে পারে। এভাবে ডিজিটাল শিক্ষা বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি অধিকার হয়ে উঠবে, যা বিবেকানন্দের ক্ষমতায়নের স্বপ্ন পূরণ করবে। যখন স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, শিক্ষা হলো “মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান পরিপূর্ণতার প্রকাশ,” তখন তিনি স্মার্টফোন, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা ভাবেননি। তবুও তাঁর চরিত্রগঠন, ক্ষমতায়ন ও সেবার দর্শন ডিজিটাল যুগে প্রবলভাবে প্রতিধ্বনিত হয়, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায়, যেখানে কোটি কোটি তরুণ সংযোগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তাঁর ধারণা, চিরন্তন মূল্যবোধে ভিত্তি করে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা ও যুব নেতৃত্ব গঠনের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন শিক্ষা কেবল তথ্য আদানপ্রদান নয়, বরং শক্তি, সাহস ও সহানুভূতি জাগ্রত করার মাধ্যম। আজকের ডিজিটাল ক্লাসরুমে যেখানে জ্ঞান প্রচুর ও সহজলভ্য, সেখানে চরিত্রগঠনের উপর তাঁর জোর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লেকচার ও টিউটোরিয়াল দিতে পারে, কিন্তু তারা স্থিতিস্থাপকতা বা সহানুভূতি শেখাতে পারে না। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করতে হলে ডিজিটাল শিক্ষাকে কেবল বিষয়বস্তু সরবরাহের বাইরে গিয়ে মূল্যবোধ গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটাল পাঠ্যক্রমে নৈতিকতা, মননশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মডিউল অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল কোডিং বা ব্যবসা নয়, সহানুভূতি ও সাহসও শিখতে পারে।
তাঁর বাস্তব আধ্যাত্মিকতার উপর জোর—গরিবের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা, মানবসেবাকে পূজা হিসেবে গ্রহণ করা— ডিজিটাল উদ্যোগকে সামাজিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দিতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণ উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নত করতে। বিবেকানন্দের নীতিকে এসব উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করা মানে উদ্ভাবনকে কেবল লাভ নয়, সহানুভূতির দ্বারা পরিচালিত করা। এর মানে হলো মনে রাখা যে প্রতিটি ডেটা পয়েন্টের পেছনে একটি মানবজীবন আছে, প্রতিটি অ্যালগরিদমের পেছনে একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত আছে। চ্যালেঞ্জগুলো বাস্তব। ডিজিটাল আসক্তি, ভ্রান্ত তথ্য ও বৈষম্য প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করতে পারে। কিন্তু বিবেকানন্দের ধারণা একটি দিকনির্দেশক। তাঁর শৃঙ্খলার আহ্বান বিভ্রান্তি প্রতিহত করতে পারে; সত্যের উপর তাঁর জোর মিথ্যাকে প্রতিহত করতে পারে; অন্তর্ভুক্তির উপর তাঁর দৃষ্টি বিভাজন দূর করতে পারে। এভাবে তাঁর দর্শন উনিশ শতকের নিদর্শন নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর পথপ্রদর্শক।
দক্ষিণ এশিয়া, তার বিশাল তরুণ জনসংখ্যা নিয়ে, এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ডিজিটাল যুগ অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে, তবে এটি এমন নেতৃত্বও দাবি করে যা নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী। বিবেকানন্দের ধারণাকে গ্রহণ করে শিক্ষকেরা এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে যা দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্রও গড়ে তোলে, আর তরুণ নেতারা প্রযুক্তিকে সেবার পাশাপাশি সাফল্যের জন্য ব্যবহার করতে পারে। তাঁর কণ্ঠস্বর, সময়ের সীমানা অতিক্রম করে প্রতিধ্বনিত হয়, আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিক্ষা ও নেতৃত্বের প্রকৃত লক্ষ্য কেবল অগ্রগতি নয়, জাগরণ— শক্তি, সহানুভূতি ও ঐক্যের জাগরণ।
স্বামী বিবেকানন্দের রচনার ভাণ্ডার শুধু তাঁর বক্তৃতা বা দার্শনিক গ্রন্থে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ব্যক্তিগত চিঠি ও আত্মপ্রকাশমূলক লেখাগুলো আমাদের সামনে এক ভিন্নতর বিবেকানন্দকে তুলে ধরে— যিনি কেবল আধ্যাত্মিক গুরু নন, বরং মানবিক আবেগে ভরপুর একজন মানুষ। এই চিঠি ও ব্যক্তিগত রচনার বিশ্লেষণ করলে আমরা তাঁর অন্তর্দৃষ্টি, সংগ্রাম, এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হই। “দরিদ্রের সেবা করো, অসহায়ের পাশে দাঁড়াও— এটাই প্রকৃত পূজা।” এখানে তাঁর বাস্তব আধ্যাত্মিকতার দর্শন স্পষ্ট। তিনি ঈশ্বরকে মন্দিরে নয়, মানুষের মধ্যে দেখেছেন। এই চিঠি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ধর্মের আসল সারমর্ম হলো সহমর্মিতা ও সেবা। আধুনিক সমাজে যেখানে বৈষম্য বিদ্যমান, এই শিক্ষা আরও জরুরি। বিদেশে অবস্থানকালে লেখা চিঠিতে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাস একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।
বিদেশে প্রচারকাজের সময় তিনি নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। এই চিঠি তাঁর দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের উদাহরণ। “আমি নিঃসঙ্গ, অর্থাভাব আছে, কিন্তু আমার বিশ্বাস অটল— ভারত জাগবে।” তাঁর চিঠিতে আমরা দেখি গভীর সহানুভূতি, মমতা ও দুঃখবোধ। শিষ্যদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি তাদের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দের চিঠি ও ব্যক্তিগত রচনা আমাদের তাঁর মানবিক দিকের সঙ্গে পরিচিত করে। এগুলো কেবল আধ্যাত্মিক নির্দেশ নয়, বরং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা। তাঁর চিঠি পড়লে বোঝা যায়, তিনি শিষ্যদের কেবল ধর্মীয় পথে পরিচালিত করতে চাননি, বরং তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শক্তি, সাহস ও সহানুভূতি জাগাতে চেয়েছেন।
স্বামী বিবেকানন্দের ব্যক্তিগত রচনা তাঁর দর্শনের মানবিক রূপ। এগুলো আমাদের শেখায়, আধ্যাত্মিকতা কেবল মন্দিরে বা ধ্যানকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ধর্ম। তাঁর এই বাস্তব আধ্যাত্মিকতা আজও আমাদের পথ দেখায়— মানুষের সেবা মানেই ঈশ্বরসেবা। শিষ্যদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি যুবসমাজকে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। তাঁর কাছে তরুণরা ছিল জাতির ভবিষ্যৎ। “আমার বিশ্বাস তরুণ প্রজন্মের উপর… তারা সিংহের মতো সমস্যার সমাধান করবে।” এই আহ্বান কেবল আধ্যাত্মিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক নেতাই এই আহ্বান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে লেখা চিঠিতে তিনি শিকাগো ধর্মসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন। “সকল ধর্মই সত্যের পথে নিয়ে যায়। সহিষ্ণুতা নয়, গ্রহণই আমাদের পথ।” তাঁর কাছে ধর্ম মানে ছিল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। এই চিঠি তাঁর অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে, যা আজও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের জন্য প্রাসঙ্গিক। স্বামী বিবেকানন্দের কাছে আধ্যাত্মিকতা মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যুবসমাজকে জাগানো, এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য খুঁজে পাওয়া।
Advertisement



