বুধবার দিল্লিতে গভীর রাতে এক বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এআইএডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর। তিনি ইপিএস নামেও পরিচিত। শীর্ষস্তরের একটি সূত্রে খবর, ইপিএস-কে চাপ দেওয়া হয় যে, যদি এআইএডিএমকে-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করে তবে বিজেপির জন্য কমপক্ষে ৩টি মন্ত্রিপদ সংরক্ষণ করা হোক। বিজেপির প্রস্তাবের পাশাপাশি এই দাবি করা হয় যে, গেরুয়া দল এবং তার নিজস্ব সহযোগী দলগুলি রাজ্যের ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৫৬টিতে একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এআইএডিএমকে-র প্রবীণ নেতারা ক্ষমতা ভাগাভাগির এই প্রস্তাবকে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, বৈঠকে পালানিস্বামী কোনও রকম প্রতিশ্রুতি দেননি। শাহকে তিনি বলেন যে বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা করতে হবে। এআইএডিএমকে-র এক প্রবীণ নেতা বলেছেন যে, পালানিস্বামী শাহকে বলেন, এই ধরণের ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়াও নির্বাচনী দিক থেকে ক্ষতিকারক হতে পারে। রাজ্যের মানুষ এটি গ্রহণ করবে না এবং এটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।
আগামী এপ্রিল-মে মাস নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, পুদুচেরির পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা ভোট। সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এডিএমকে-বিজেপি জোটের।
জয়ললিতার মৃত্যুর পরে তাঁর বান্ধবী ভিকে শশীকলা, তাঁর ভাইপো টিটিভি দিনাকরণ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ও পন্নীরসেলভমের মতো নেতারা দল ছাড়ায় সাংগঠনিক ভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে এডিএমকে। এই পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি করে বাড়তি আসনের দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি শাহ নতুন সরকারে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবও দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে মাত্র ২০টি আসন ছেড়েছিলেন পালানিস্বামী। সেই নির্বাচনে বিপুল জয় পায় ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট। এর পরে এনডিএ জোট ছাড়ে এডিএমকে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলাদা ভাবে লড়ে উভয় দলেরই ভরাডুবি হয়। তামিলনাড়ুর ৩৯টি আসনের সব গুলিতে জয়লাভ করে ইন্ডিয়া জোট। সেপ্টেম্বরে এনডিএ-তে ফিরে আসে পালানিস্বামীর দল।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারের বিধানসভা ভোটে ইন্ডিয়া-র অন্দরেও টানাপড়েনের খবর রয়েছে তামিলনাড়ু থেকে। কংগ্রেসকে মাত্র ৩২টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের দল। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির দাবিও খারিজ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতাদের বড় অংশ ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা শুরু করেছেন বলে কয়েকটি খবরে দাবি।
Advertisement