ইডি হানা ও আইপ্যাক বিতর্কে এ বার কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা, বিজেপি নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্যারামিলিটারি বাহিনী নামিয়ে এলাকা দখল করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘আজকে অভিষেক মিটিং করতে গেছে। এত ভীতুর দল—প্যারামিলিটারি দিয়ে পুরো এলাকাটাকে দখল করে রেখে দিয়েছে। তোমার কী অধিকার আছে? তুমি ল’ অ্যান্ড অর্ডারে ইন্টারফেয়ার করছ!’ কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে রাজ্য সরকারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন মমতা।
Advertisement
নিজের ভূমিকার ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি যা করেছেন তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেই। তাঁর কথায়, ‘আমি কালকে যা করেছি, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। আর যা করেছি, আমি কোনও অন্যায় করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুমি আমায় খুন করতে এসেছো। আমার আত্মরক্ষা করার অধিকার আছে।’
Advertisement
ইডির অভিযান নিয়ে আরও তীব্র ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চোরের মতো কেন এসছো? তুমি চুরি করে সব মানুষের এসআইআর-এর টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলে!’ তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত তথ্য ও অর্থ বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
কয়লা পাচার মামলার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন, ‘বলছে কয়লার টাকা। কে খায়? অমিত শাহ খায়— হোম মিনিস্টার! কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়।’ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘এক জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর শুভেন্দু অধিকারীর কাছে টাকা যায় অমিত শাহর কাছে।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘এই জগন্নাথ জগন্নাথ ধামের জগন্নাথ নয়, পুরীর জগন্নাথ নয়। বিজেপির বড় ডাকাত।’
বক্তব্যে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলো বাইরে বের করে দিই না। বেশি রাগালে বলে দিচ্ছি, আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে। আমি ভান্ডার ফাঁস করে দেব।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে আর সামলে রাখতে পারবেন না।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি অনেক কিছু জানেন। কিন্তু দেশের স্বার্থে সব কথা প্রকাশ্যে আনছেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি মুখ খুললে সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। কিন্তু আমি করি না, দেশটাকে ভালবাসি বলে। এটা দুর্বলতা নয়।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শাসকদলের দাবি, কেন্দ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক ময়দানে নয়, আইনি ও সাংবিধানিক ক্ষেত্রে আরও গভীর হতে চলেছে।
Advertisement



